রাহুলের স্মৃতিতে ‘ছবিওয়ালা’, টিকিট ছাড়াই প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে অভিনেতার শেষ ছবি

আশ্চর্যের বিষয় হল, ছবিতে রাহুলের চরিত্র ‘বিশ্বকর্মা’র জীবনের সঙ্গে বাস্তবের যেন এক অদ্ভুত সমাপতন ঘটেছে। বিশ্বকর্মা এমন এক চিত্রগ্রাহক ও শিল্পী, যিনি জীবনভর নিজের কাজের স্বীকৃতির খোঁজ করেছেন। অদ্ভুতভাবে সেই স্বীকৃতি আসে তাঁর মৃত্যুর পর। ছবিতে দেখানো হয়েছে, বিশ্বকর্মা নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে কাজ না পেয়ে শেষমেশ মৃত মানুষের ছবি তোলার কাজ করতে বাধ্য হন। তাঁর স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবলীনা দত্ত।

রাহুলের স্মৃতিতে ‘ছবিওয়ালা’, টিকিট ছাড়াই প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে অভিনেতার শেষ ছবি

|

Apr 09, 2026 | 4:22 PM

চলে গিয়েও তিনি থেকে গিয়েছেন তাঁর অগণিত কাজের মধ্যে। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণ টলিউডের এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে এবার তাঁর অনুরাগীদের জন্য এক আবেগঘন খবর নিয়ে এল পরিচালক বাপ্পার টিম। কোনও ব্যবসায়িক মুনাফা নয়, বরং শিল্পী রাহুলকে শেষ সম্মান জানাতে তাঁদের আগামী ছবি ‘ছবিওয়ালা’ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দর্শকদের দেখানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন প্রযোজকরা।

জানা গিয়েছে, ছবিটির নাম প্রথমে রাখা হয়েছিল ‘নেগেটিভ’। কিন্তু রাহুলের আকস্মিক মৃত্যু পরিচালক ও প্রযোজককে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। প্রিয় অভিনেতার প্রতি ভালোবাসা থেকেই সিনেমার নাম বদলে রাখা হয় ‘ছবিওয়ালা’। পরিচালক শুভ্রজ্যোতি (বাপ্পা) জানান, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই ছবি নিয়ে কোনও ব্যবসা করব না। রাহুলদার একজন অনুরাগী ও শিষ্য হিসেবে আমি চাই যেন দর্শক প্রেক্ষাগৃহে টিকিট না কেটেই ছবিটি দেখতে পান। আমরা হল মালিকদের কাছেও আবেদন জানাচ্ছি যাতে এই মহৎ উদ্যোগে সকলে সামিল হন।”

আশ্চর্যের বিষয় হল, ছবিতে রাহুলের চরিত্র ‘বিশ্বকর্মা’র জীবনের সঙ্গে বাস্তবের যেন এক অদ্ভুত সমাপতন ঘটেছে। বিশ্বকর্মা এমন এক চিত্রগ্রাহক ও শিল্পী, যিনি জীবনভর নিজের কাজের স্বীকৃতির খোঁজ করেছেন। অদ্ভুতভাবে সেই স্বীকৃতি আসে তাঁর মৃত্যুর পর। ছবিতে দেখানো হয়েছে, বিশ্বকর্মা নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে কাজ না পেয়ে শেষমেশ মৃত মানুষের ছবি তোলার কাজ করতে বাধ্য হন। তাঁর স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবলীনা দত্ত। এছাড়াও ছবিতে রয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র, শান্তনু নাথ, রিমি দেব, রানা বসু ঠাকুরের মতো অভিনেতারা। ছবির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সৌম্য ঋত এবং গান গেয়েছেন রূপম ইসলাম, সোমলতা আচার্য ও জোজো।

রাহুলের পরিবার এখন গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আয়ারল্যান্ড থেকে তাঁর দাদাও কলকাতায় এসেছেন। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর ফিরে যাওয়ার কথা। তার আগেই যেন পরিবারের সদস্যরা ছবিটি দেখে নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই মে মাস নাগাদ ছবিটির মুক্তি নিয়ে এগোচ্ছেন নির্মাতারা।

শিল্পী বেঁচে থাকেন তাঁর শিল্পে। ‘ছবিওয়ালা’র এই উদ্যোগ প্রমাণ করল যে, টলিউডের কাছে রাহুল কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক আবেগের নাম। টিকিটহীন এই প্রদর্শনী সফল হলে তা হবে একজন শিল্পীর প্রতি বাংলা সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম বড় সম্মান।

Follow Us