
অক্ষয়-পত্নী টুইঙ্কল খান্না (Twinkle Khanna) বরাবরই যে কোনও সিরিয়াস বিষয়কে নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় হালকা করে তুলতে পারেন। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের খাদ্য সুরক্ষা দফতরের (এফডিএ) কড়া পদক্ষেপে তোলপাড় গোটা রাজ্য। রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে নামীদামি খাবারের দোকানে নিয়ম মেনে চলছে লাগাতার অভিযান। আর সেই আবহেই এবার নিজের রান্নাঘরে ‘তল্লাশি’ চালিয়ে বসলেন অভিনেত্রী তথা লেখিকা টুইঙ্কল। খাদ্য দফতরের শীর্ষকর্তা আইএএস তুকারাম মুন্ডের কড়া নজরদারিতে অনুপ্রাণিত হয়েই নাকি তাঁর এই কাণ্ড!
সম্প্রতি নিজের লেখায় এই মজাদার অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন টুইঙ্কল। তিনি জানান, রাজ্যে ভেজাল খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে যেভাবে অভিযান চলছে, তা দেখে কৌতূহলবশত তিনিও নিজের রান্নাঘরের ড্রয়ার ঘাঁটতে শুরু করেন। আর তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ! রান্নাঘরের তাক থেকে এমন এক প্যাকেট শাহি মশলা উদ্ধার হয়েছে, যার মেয়াদ নাকি শেষ হয়ে গিয়েছে সেই মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের সময়েই। নিজের লেখায় রসিকতা করে তিনি বলেন, যাঁরা ইতিহাস থেকে মুঘলদের মুছে ফেলতে চান, তাঁদের তো আগে দুপুরের খাওয়া থেকেই তা শুরু করা উচিত। কারণ কোফতা, কোর্মা কিংবা কাবাব, সবেতেই তো মুঘল প্রভাব রয়েছে।
এর সঙ্গেই বাজারে চলতে থাকা ‘নকল পনির’ বিতর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। ভেজাল পনিরের আতঙ্কে এখন তিনি আর তাঁর মা, বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়া বাজার থেকে পনির কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন। দু’জনেই বাড়িতে দুধ ফুটিয়ে খাঁটি পনির তৈরি করা শুরু করেছেন। তবে সেখানেও মা-মেয়ের মধ্যে লেগে গিয়েছে জোর প্রতিযোগিতা।
টুইঙ্কলের দাবি, ডিম্পল এক লিটার দুধে ২৫০ গ্রাম পনির বানিয়ে ফেলেন, আর তিনি একই পরিমাণ দুধে পান মাত্র ১৮০ গ্রাম। কার পনির বেশি নরম আর স্বাদের, তা নিয়ে দুই বাড়িতে রীতিমতো তুলনা চলছে। হাসতে হাসতে টুইঙ্কল লেখেন, এর পর হয়তো মা বলবেন কার পনির বেশি সাদা, আর সেই পাল্লায় জেতার জন্য তাঁকেও হয়তো পনিরে কাপড় কাচার গুঁড়ো সাবান মিশিয়ে দিতে হবে!
উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রের এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুন্ডের নেতৃত্বে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং খাবার সরবরাহকারী সংস্থাগুলির ওপর ব্যাপক নজরদারি চালানো হচ্ছে। মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া খাবার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দায়ে বহু দোকানের লাইসেন্স সাময়িক বাতিলও করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে চলা সেই কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপকেই একেবারে নিজস্ব মজাদার ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন টুইঙ্কল।