
সম্প্রতি জন্মদিন ছিল দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের। দেবশ্রী অভিনেত্রী, তিনি নায়িকা শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের দিদি। ইনস্টাগ্রামে শুভশ্রীর কোনও শুভেচ্ছাবার্তা চোখে পড়েনি দেবশ্রীর জন্য। তাই নিয়ে সমাজ মাধ্যমে শুরু হয়ে গিয়েছে চর্চা। তবে কি দুই বোনের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাচ্ছে? টিভি নাইন বাংলার তরফে দেবশ্রীর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি খোলসা করলেন, ”আমি এখন বেশিরভাগ সময়ে দিল্লিতে থাকি, কারণ আমার ছেলে এখানে থাকে। তাই রাজ (চক্রবর্তী) বা বোনের সঙ্গে খুবই কম দেখা হয়। আমি একদিনের জন্য গেলে হয়তো বাচ্চাদের সঙ্গে দেখা করে চলে আসি। বোনের কাজের ব্যস্ততার জন্য ওঁর সঙ্গে দেখা হয় না। একসঙ্গে আমরা ছবি দিইনি বহুদিন। তাই হয়তো এসব বলছেন অনেকে। বোনে-বোনে কি ঝগড়া হয় না? তবে আমাদের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়নি”।
পরিচালক রাজ চক্রবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে সবুজ শিবিরের হয়ে প্রার্থী ছিলেন। রাজ্যে ৪মে সবুজ শিবিরকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। দেবশ্রী তারপরই বিজেপিকে সমর্থন করেন, তা স্পষ্ট করে দেন। তাঁর কি মনে হয়, টলিউডের রাজনীতিতে জড়িয়ে যাওয়া, তারকাদের ক্ষতির মুখে ফেলেছে? ”আমি মনে করি, রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে টলিউডের ক্ষতি হয়েছে। রচনাদি (বন্দ্যোপাধ্যায়) সাংসদ হলেন, কিন্তু কাজটা চলে গেল। আমি দেখেছি, রাজের সঙ্গে অরূপ বিশ্বাসের কীরকম মতবিরোধ হতো। রাজ একজন পরিচালক হিসাবে ইন্ডাস্ট্রির ভালো চেয়ে হয়তো কিছু কথা বলত।
এদিকে অরূপ বিশ্বাস চাইতেন, রাজ তৃণমূল কংগ্রেসের হয়েই কথা বলুক। টলিউডের তারকারা যেভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়েছে, তাতে সামগ্রিকভাবে যে ক্ষতি হয়েছে, এখন আমরা স্পষ্ট বুঝতেই পারছি। এমনকী আমাকে বহু সময়ে শুনতে হয়েছে, ‘তোমার বোন আর বোনের বর চোরদের পার্টির সঙ্গে যুক্ত’! আমার বোন এবং তাঁর বরের রাজনৈতিক পছন্দই যে আমার রাজনৈতিক পছন্দ হবে, তা নয়। আমি বিজেপি সমর্থক। তবে এই প্রশ্ন আসতে পারে, এতদিন কেন বলিনি? ভাবুন, রাজ যখন বিধায়ক হওয়ার জন্য লড়ছে, তখনই যদি বলতাম, আমি বিজেপির সমর্থক, তা হলে তার কী প্রভাব হতো! লোকে তখনই বলতেন, বোনের সঙ্গে সম্পর্ক খুব খারাপ। আসলে বাইরে থেকে দেখে, এরকম কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। রাজনৈতিক মত আলাদা হলেও, আমরা একই পরিবারের অংশ।”