
বলিপাড়ায় করিশ্মা কাপুর (Karisma Kapoor) এবং অভিষেক বচ্চনের (Abhishek Bachchan) এনগেজমেন্ট ভেঙে যাওয়া নিয়ে চর্চার শেষ নেই। অনেকেই ভাবেন, দুই পরিবারের ঝামেলার জন্যই নাকি শেষ হয়ে গিয়েছিল এই প্রেম। কিন্তু সেই সময় ঠিক কী ঘটেছিল? এত বছর পর সেই পুরনো ক্ষত নিয়ে পরপর দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের দুই বিপরীত মন্তব্য নতুন করে ঘি ঢালল আগুনে। একদিকে পরিচালক সুনীল দর্শন এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন দু’জনের ঝগড়া আর মতপার্থক্যই ছিল বিচ্ছেদের কারণ, অন্যদিকে মুকরির কন্যা নাসিম মুকরি আঙুল তুললেন সরাসরি করিশ্মার মা ববিতা কাপুরের দিকে!
নাসিম মুকরি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, ববিতা কাপুর নাকি শুরু থেকেই এই প্রেম একদম মেনে নিতে পারেননি। তাঁর মূল আপত্তি ছিল দু’জনের স্ট্যাটাস নিয়ে। কারণ, সেই সময়ে অভিষেক বচ্চনের কেরিয়ার সবে শুরু হয়েছিল, আর করিশ্মা ছিলেন বলিপাড়ার প্রথম সারির সুপারস্টার। নাসিমের দাবি, এই বিয়ে আটকাতেই এক বিশাল অঙ্কের টাকা অভিষেকের থেকে করিশ্মার নামে ট্রান্সফার করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। সেই শর্ত পূরণ না হওয়াতেই নাকি মা ববিতা নিজের মেয়েকে বাধ্য করেন সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসতে।
তবে এই দাবির একদম উল্টো সুর শোনা গিয়েছে পরিচালক সুনীল দর্শনের গলায়। ‘হ্যাঁ ম্যায়নে ভি পেয়ার কিয়া’ ছবির শুটিংয়ের সময় থেকেই দু’জনের প্রেম খুব কাছ থেকে দেখেছেন সুনীল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে, যেদিন অফিশিয়ালি এনগেজমেন্টটা ভেঙে যায়, কাকতালীয়ভাবে সে দিন তিনি নিজেই কাপুরদের বাড়িতে ছিলেন। সুনীলের মতে, কোনও পরিবার বা মা এই ভাঙনের জন্য দায়ী নন। দু’জনের প্রেম যেমন ছিল, তেমনই ছিল প্রচণ্ড মতপার্থক্য।
সুনীল দর্শন আরও জানান, ওই বিচ্ছেদের ধাক্কা সামলাতেই তড়িঘড়ি নিউ ইয়ার উদযাপনে ব্যাংকক চলে যান করিশ্মা। আর ব্যাংকক ট্রিপ থেকে ফিরেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরকে বিয়ে করার। ২০০৩ সালে হঠাৎ নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত আজও অবাক করে অনেককে।
২০০২ সালে অমিতাভ বচ্চনের জন্মদিনে এই সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে এলেও ২০০৩-এর শুরুতেই তা চুরমার হয়ে যায়। সেই বছরেই সেপ্টেম্বরে সঞ্জয় কাপুরের সঙ্গে ছাতনাতলায় বসেন করিশ্মা। যদিও ২০১৬ সালে আইনি লড়াইয়ের পর সেই সংসারও ভাঙে। এত বছর পরেও অভিষেক-করিশ্মার প্রেম ভাঙার আসল কারণ কিন্তু রয়ে গেল ধোঁয়াশাতেই।