
ক্যাটরিনা কাইফ (Katrina Kaif) আজ বলিউডের প্রথম সারির ‘এ-লিস্টার’ তারকা হতে পারেন, কিন্তু কেরিয়ারের শুরুতে ক্যামেরার মুখোমুখি হওয়ার প্রাথমিক ব্যাকরণটাই নাকি জানা ছিল না তাঁর। এমনকি একটি দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য রাজকীয় ভাবভঙ্গি তো দূর অস্ত, কীভাবে সোজা হয়ে বসতে হয়, তা-ও নাকি ধরে ধরে শিখিয়ে দিতে হয়েছিল নির্মাতাদের। দুই দশকেরও বেশি সময় পর ক্যাটরিনার তেলুগু ডেবিউ ছবি ‘মল্লিশ্বরী’ (Malliswari) নিয়ে এমনই এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করলেন ছবির পরিচালক কে বিজয় ভাস্কর। ২০০৪ সালের সেই ব্লকবাস্টার ছবিতে এক নবাগতাকে নিয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রযোজক ও পরিচালককে কতটা কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল, তা জানিয়েছেন বিজয়।
একটি সাক্ষাৎকারে পরিচালক বিজয়া ভাস্কর জানিয়েছেন, ক্যাটরিনাকে পরিচালনা করা সেই সময়ে তাঁদের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। গ্ল্যামার দুনিয়ায় পা রাখলেও দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার ঘরানার সঙ্গে একেবারেই খাপ খাওয়াতে পারছিলেন না এই অভিনেত্রী। পরিচালকের কথায়, “কাজটা ভীষণ কঠিন ছিল। তবে ক্যাটরিনা অসম্ভব পরিশ্রমী ছিলেন।” এরপরই অভিনেত্রীর তৎকালীন খামতিগুলো নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, “ওর তখন কোনও বডি ল্যাঙ্গুয়েজই ছিল না। ও যখন সেটে বসত, আমাকে গিয়ে বলতে হত যে দয়া করে সোজা হয়ে বসো।” সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সংস্কৃতি ও পাশ্চাত্য পরিবেশে বড় হওয়া ক্যাটরিনার পক্ষে একজন খাঁটি ও মার্জিত তেলুগু রাজকন্যার চরিত্র ফুটিয়ে তোলা যে কতটা কঠিন ছিল, তা পরিচালকের এই বক্তব্যেই স্পষ্ট।
টলিউড (দক্ষিণ) সূত্রের খবর, সুপারহিট এই ছবিতে ক্যাটরিনা কাইফের অভিনয় করার কথাই ছিল না। একটি বিজ্ঞাপনে ক্যাটরিনাকে প্রথম দেখে বিজয়া ভাস্কর তাঁকে ‘মল্লিশ্বরী’র চরিত্রের জন্য চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বাণিজ্যিক চুক্তি ও কাস্টিংয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ জটিল। পরিচালক জানান, “আমরা মুম্বই গিয়ে ওকে চিত্রনাট্য শোনানোর পর ও প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে কিছু বিষয়ে মতানৈক্য তৈরি হয়। এমনকি অগ্রিম অর্থ বা সাইনিং অ্যামাউন্ট দিতে চাইলেও ক্যাটরিনা তা নিতে চাননি।”
এই অচলাবস্থার মাঝেই বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হন নির্মাতারা। অডিশন ও স্ক্রিন টেস্টের জন্য ডাক পড়ে তৎকালীন দেশের প্রথম সারির সমস্ত বিউটি পেজেন্ট বিজয়ী ও মডেলদের। ছবির অন্যতম শীর্ষ প্রযোজক সুরেশ দাগ্গুবতি একাধিক হাই-প্রোফাইল সুন্দরীদের নিয়ে ফটোশুটও করান। সেই তালিকায় অন্যতম নাম ছিল জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোনালী বেন্দ্রের। তবে চেনা মুখের পরিবর্তে পর্দায় নতুনত্ব আনতে বিজয় ভাস্কর নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে ক্যাটরিনাকেই চুক্তিবদ্ধ করা হয়। বাণিজ্যিক ভাবে সফল সেই ছবিই যে পরবর্তীতে ক্যাটরিনাকে ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম শীর্ষ তারকায় পরিণত করার পথ প্রশস্ত করেছিল, তা বলাই বাহুল্য।