
টলিউডের সুপারহিট পরিচালক জুটি নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁদের ছবি মানেই বক্স অফিসে ঝড়। বাংলা ছবির দর্শক, শিবপ্রসাদের ছবির সঙ্গে অদ্ভুত টান খুঁজে পান। তার একটাই কারণ, নন্দিতা ও শিবপ্রসাদ বাঙালির নার্ভ খুব ভালো বুঝতে পারেন। তবে এই গল্প তাঁদের ছবি নিয়ে নয়, বরং তাঁদের প্রিয় নায়িকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে নিয়ে। এক সাক্ষাৎকারে শিবপ্রসাদ জানিয়ে ছিলেন, টলিউড ক্যুইন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, তাঁদের ছবির লাকি চার্ম। ঋতুপর্ণা থাকলে, নন্দিতা-শিবপ্রসাদের ছবিতে আলাদা ম্যাজিক যোগ হয়। তার প্রমাণ, মুক্তধারা, অলীক সুখ, বেলাশেষে, বেলাশুরু ছবি। কিন্তু জানেন কি? এই শিবপ্রসাদের কারণেই একদিন দুপুরে খাবার জোটেনি ঋতুপর্ণার! হ্য়াঁ, বেলাশেষে ছবির শুটিংয়ের নেপথ্যের গল্প বলতে গিয়ে এমনই এক গোপন কাণ্ড শেয়ার করেছেন খরাজ।
অভিনেতা খরাজ সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে নেটিজেনদের সেই গল্প শেয়ার করেছিলেন। খরাজ জানিয়ে ছিলেন, বোলপুরে তখন বেলাশেষে ছবির শুটিং চলছে। বোলপুরে এক দারুণ বাড়িতে আমরা জমায়েত হয়েছিলাম। একদিন জানতে পারি, বহুক্ষণ আমাদের কারও দৃশ্যের শুট নেই। শুধু সৌমিত্রদা ও স্বাতীলেখাদির শুটিং হবে। ব্যস, আমরা সবাই, প্ল্যান করে ফেললাম। বোলপুরের এক রেস্তরাঁয় জমিয়ে বাঙালি খাবার দিয়ে লাঞ্চ সারব। যেমন ভাবা, তেমনি কাজ। ব্যস, আমরা দল বেঁধে চলে গেলাম।
খরাজ এই ভিডিওতে আরও জানালেন, সবে আমরা খেতে বসেছি। হঠাৎ করে ঋতুপর্ণার ফোনে, শিবপ্রসাদের ফোন! জানতে চাইল, কোথায় আছো? ঋতু (ঋতুপর্ণা) পরিস্থিতিটা সামলে নিয়েই বলেছিল, এই সবার সঙ্গে একটু এসেছি। কিছু দরকার? শিবপ্রসাদ তারপর জানতে চাইল গাড়িটা কোথায়? ঋতুপর্ণা বলেছিল, গাড়িটা তাঁর কাছেই রয়েছে। তার উত্তরে, শিবপ্রসাদ বলেছিলেন, তুমি একটা ছবিতে কাজ করছ, আর গাড়ি নিয়ে চলে গেলে। এর উত্তরে ঋতু বলেছিল, যে আমি জানতাম, আমার শুট নেই। তারপর দুম করেই শিবপ্রসাদ গাড়িটা ফেরত পাঠানোর কথা বলে। পরিস্থিতিটা সুবিধার না আন্দাজ করতে পেরে ঋতুপর্ণা কিন্তু না খেয়েই শুটিং ফ্লোরে ফিরে যায়। তারপর আমরা সেটে ফিরতেই শুনি। শিবপ্রসাদ, ঋতুকে বলেছে, তুমি খেতে পাও না, যে খেতে গিয়েছো! হাউ হাউ করে কাঁদছিল ঋতু।
এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে খরাজ মুখোপাধ্য়ায় কিন্তু ঋতুপর্ণার প্রশংসায় পঞ্চমুখও হন। সেই পুরনো ভিডিওই ফের ভাইরাল সোশাল মিডিয়ায়।