
কিয়ারা আডবাণী (Kiara Advani) মা হতে চলেছেন, এই খবরটা যখন তিনি প্রথম পেয়েছিলেন, তখন পরিবারের বাইরে সবার প্রথমে কার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন জানেন? তিনি আর কেউ নন, দক্ষিণী সুপারস্টার যশ এবং পরিচালক গীতু মোহনদাস। সম্প্রতি চেন্নাইয়ে আসন্ন মেগা বাজেট ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন আপস’-এর জমকালো প্রচার অনুষ্ঠানে এসে এই অজানা গল্পটি নিজেই সবার সামনে তুলে ধরলেন কিয়ারা।
সাধারণত একটা বড় বাজেটের সিনেমার কাজ চলার মাঝপথে যদি কোনও নায়িকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন, তবে গোটা টিম চিন্তায় পড়ে। শুটিংয়ের তারিখ পিছিয়ে যাবে কি না, বাড়তি খরচ কীভাবে সামলানো হবে, এইসব হিসেব-নিকেশে অনেকের কপালেই চিন্তার ভাঁজ পড়ে। কিন্তু কিয়ারা যখন এই খবরটি দিয়েছিলেন, তখন যশের প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারে অভাবনীয়।
কিয়ারার কথায়, “তাঁরা ছবির কাজ কীভাবে শেষ হবে বা কোনও ক্ষতি হবে কি না, তা নিয়ে একটা সেকেন্ডের জন্যও ভাবেননি। খবরটা শোনা মাত্রই যশ আর গীতুর চোখ আনন্দে জলে ভরে গিয়েছিল। মুখে ছিল মিষ্টি হাসি। তাঁরা আমাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বলেছিলেন, কিয়ারা, আমরা এবার জীবনের সেরা সময় কাটাব!”
শুধু শুভেচ্ছাই নয়, পুরো শুটিং চলাকালীন কিয়ারা যাতে এতটুকুও মানসিক বা শারীরিক চাপ অনুভব না করেন, তার পুরো খেয়াল রেখেছিলেন নির্মাতারা। অভিনেত্রীকে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছিল, তিনি নিজের শরীর ও সুবিধে অনুযায়ী যখন খুশি সেটে আসবেন এবং তাঁর যা খেতে ইচ্ছে করবে তিনি তা-ই খাবেন। সহকর্মীদের এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবিক ব্যবহার কিয়ারার হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন, “আমার খুশিতে অন্য কেউ এতটা আনন্দিত হতে পারে, তা আমি সত্যিই ভাবতে পারিনি। আপনারা মানুষ হিসেবে কতটা খাঁটি, সেটাই সেদিন বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।”
এই বিগ বাজেট অ্যাকশন থ্রিলার ‘টক্সিক’-এ কিয়ারা অভিনয় করছেন ‘নাদিয়া’ নামের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। এই ছবিতে যশ এবং কিয়ারা ছাড়াও রয়েছেন নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া এবং রুক্মিণী বসন্তের মতো দেশের তাবড় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। ছবিটিকে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই দেশের সেরা কলাকুশলীদের এক ছাদের তলায় নিয়ে আসা হয়েছে। আগামী ২০২৬ সালের ২৬ অগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ছবিটি। পর্দার পেছনের এই মিষ্টি রসায়ন আর পারস্পরিক শ্রদ্ধা দেখে দর্শকরাও এখন বড় পর্দায় এই ছবি দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।