
২০১২ সালের ব্লকবাস্টার ‘ককটেল’ ছবিতে দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone) অভিনীত ‘ভেরোনিকা’ চরিত্রটি এখনও সিনেমাপ্রেমীদের মনে একটা আলাদা জায়গা নিয়ে রেখেছে। এবার সেই ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় কিস্তি অর্থাৎ ‘ককটেল ২’ ছবিতে ‘অ্যালি’র চরিত্রে অভিনয় করছেন কৃতি সেনন (Kriti Sanon)। বড় পর্দায় ছবি আসার আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে দুই নায়িকার জোরদার তুলনা। স্বাধীনচেতা, কিছুটা বেপরোয়া আর বিন্দাস স্বভাবের এই নতুন চরিত্রটির সঙ্গে অনেকেই মিল খুঁজে পাচ্ছেন ভেরোনিকার। সমাজমাধ্যমে চলা এই চর্চা এবার পৌঁছাল খোদ নায়িকার কান পর্যন্ত। অনবরত এই তুলনা নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন কৃতি, আর যা বললেন তা বেশ নজর কেড়েছে বলিপাড়ার।
বলিউডে যখনই কোনও জনপ্রিয় ছবির সিক্যুয়েল তৈরি হয়, তখনই নতুন অভিনেতাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো দর্শকের পুরনো অভ্যাস। তবে কৃতি এই তুলনাকে একেবারেই হালকা চালে নিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, এই ধরণের তুলনা যে আসবে তা তিনি ছবিটিতে কাজ করার আগে থেকেই জানতেন। কারণ, ছবির ঘরানা এবং দুই চরিত্রের এনার্জির মধ্যে মিল থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তাই বলে দীপিকার করা চরিত্রকেই তিনি নকল করছেন, এই তত্ত্ব মানতে নারাজ কৃতি।
তিনি সটান প্রশ্ন তুলেছেন, দীপিকা যে চরিত্রটি দুর্দান্তভাবে ফুটিয়ে তুলে গিয়েছেন, সেটাই আবার নতুন করে করার কোনও মানে হয় না। কৃতির মতে, ‘ককটেল ২’ ছবির মূল আকর্ষণই হল এর সম্পূর্ণ নতুন গল্প, নতুন ধরণের সামাজিক দ্বন্দ্ব এবং একেবারে আলাদা কিছু চরিত্র। ‘অ্যালি’র নিজস্ব একটা চটফটে ব্যক্তিত্ব রয়েছে, যা দর্শক ছবিতে দেখতে পাবেন। বাইরে থেকে মিল মনে হলেও ভেরোনিকা আর অ্যালি বাস্তবে সম্পূর্ণ আলাদা মানুষ দুজনের চরিত্রও একেবারে আলাদা।
মূল ছবির জনপ্রিয়তার কারণে সিক্যুয়ালে অভিনয় করাটা সবসময়ই বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। খোদ সইফ আলি খান সম্প্রতি একটি তথ্য ফাঁস করে জানিয়েছেন, প্রথম ছবিতে দীপিকার অভিনয় এতটাই মন জয় করে নিয়েছিল যে, অনেক প্রথম সারির পুরুষ অভিনেতা তাঁর পাশে ঢাকা পড়ে যাওয়ার ভয়ে অভিনয় করতে পর্যন্ত রাজি হননি। ফলে কৃতির উপর যে একটা প্রচ্ছন্ন চাপ থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে কৃতি সাফ জানিয়েছেন, অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তিনি বিশ্বাস করেন না। নিজের কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকলে এই ধরণের তুলনা কোনও প্রভাব ফেলে না। নিজেকেই নিজের প্রতিযোগী মনে করে আগামী দিনে আরও ভাল কাজ উপহার দিতে চান এই অভিনেত্রী।