
ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘পদ্ম পুরস্কার'(Padma Awards 2026) প্রদান ঘিরে আজ সাজসাজ রব নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে। শিল্প, সাহিত্য থেকে শুরু করে ক্রীড়া, বিজ্ঞান, চিকিৎসা এবং সমাজসেবা- বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য দেশের একাধিক রথী-মহারথীকে এদিন সম্মানিত করা হল। ২৫ মে, রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রথম অসামরিক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত ধরে সম্মানিত হলেন দেশের এই কৃতী সন্তানেরা। চলতি বছরে ভারত সরকারের তরফে মোট ১৩১টি পদ্ম সম্মানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৫টি পদ্মবিভূষণ, ১৩টি পদ্মভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী সম্মান। আর এই বিরাট তালিকার দিকে চোখ রাখলেই দেখা যাবে, রুপোলি পর্দা থেকে গানের জগত কিংবা থিয়েটারের মঞ্চ, বিনোদন দুনিয়ার একঝাঁক উজ্জ্বল নক্ষত্র সেখানে সগৌরবে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন।
তালিকার একেবারে শীর্ষেই রয়েছেন হিন্দি সিনেমার ‘হিম্যান’ খ্যাত প্রয়াত অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। ‘শোলে’, ‘চুপকে চুপকে’ বা ‘ফুল অউর পাত্থর’-এর মতো কালজয়ী ছবির এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করা হল। ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে তাঁর অবদান যে কখনও ভোলার নয়, তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে, মালয়ালাম সিনেমার মহাতারকা মামুট্টি তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। মালয়ালামের পাশাপাশি তামিল এবং হিন্দি ছবিতেও সমান দক্ষতায় কাজ করেছেন তিনি। এর আগে ১৯৯৮ সালে তিনি পদ্মশ্রী পেয়েছিলেন। পাশাপাশি, ভারতীয় সঙ্গীতে দীর্ঘ ও অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘পদ্মভূষণ’ পেলেন প্রখ্যাত নেপথ্য গায়িকা অলকা ইয়াগনিক।
বাঙালি দর্শকদের জন্য এই বছরের পদ্ম পুরস্কার অত্যন্ত গর্বের। কারণ, টলিউডের ‘বুম্বাদা’ অর্থাৎ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করা হল। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সাড়ে তিনশোটিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করে তিনি বাঙালি দর্শকদের মনের মণিকোঠায় চিরতরে পৌঁছে গিয়েছেন। তাঁর এই প্রাপ্তিতে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত গোটা বাংলার অনুরাগীরা। এছাড়াও ‘পদ্মশ্রী’ পাচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আর মাধবন। ‘ম্যাডি’ নামেই যিনি সকলের কাছে বেশি পরিচিত। ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’, ‘থ্রি ইডিয়টস’ থেকে শুরু করে হালফিলের ‘রকেট্রি: দ্য নাম্বি এফেক্ট’- মাধবনের অভিনয় বরাবরই প্রশংসিত। ২০২৩ সালে ‘রকেট্রি’ ছবির জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছিলেন।
প্রয়াত অভিনেতা সতীশ শাহকেও মরণোত্তর ‘পদ্মশ্রী’ প্রদান করা হল। ‘সারাভাই ভার্সেস সারাভাই’, ‘ইয়ে জো হ্যায় জিন্দেগি’ বা ‘এফআইআর’-এর মতো শোয়ের হাত ধরে তিনি দর্শকদের ঘরে ঘরে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছিলেন। ‘ম্যায় হুঁ না’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’-এর মতো সিনেমাতেও তাঁর অসাধারণ কমিক টাইমিংয়ের কথা কোনও দর্শকই ভুলতে পারবেন না। পাশাপাশি থিয়েটার এবং সিনেমার প্রবীণ অভিনেতা অনিল কুমার রাস্তোগি ‘পদ্মশ্রী’ পেলেন। ‘ইশাকজাদে’, ‘থাপ্পড়’, ‘মুল্ক’-এর মতো ছবির পাশাপাশি বিজ্ঞান ও শিক্ষাক্ষেত্রেও তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। এই বছর ‘পদ্মশ্রী’ প্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন আরও এক বর্ষীয়ান অভিনেতা ও পরিচালক অরবিন্দ বৈদ্য। থিয়েটার এবং চলচ্চিত্রে ছ’দশকেরও বেশি সময় কাটানোর পর, বর্তমানে ‘অনুপমা’ মেগাসিরিয়ালে ‘বাবুজি’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আবার নতুন প্রজন্মের কাছে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। দর্শকদের সঙ্গে এই শিল্পীদের আত্মিক টান চিরকালের, আর তাঁদের এই সম্মান প্রাপ্তির খবর আজ সর্বত্র এক উৎসবের মেজাজে ছড়িয়ে গিয়েছে।