Suhasini Mulay Marriage: ৬০-এ বিয়ে, মা না হওয়ার সিদ্ধান্ত! সমাজের বাধা ধরা নিয়ম ভাঙায় কী ঘটে সুহাসিনীর সঙ্গে?

Suhasini Mulay unconventional life choices: ৬০ বছর বয়সে ফেসবুকের প্রেমে পড়ে বিয়ে! মাতৃত্ব ও দাম্পত্য নিয়ে সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখানো জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুহাসিনী মূলের ছকভাঙা জীবনের গল্প। কী বলেছিলেন তাঁর মা?

Suhasini Mulay Marriage: ৬০-এ বিয়ে, মা না হওয়ার সিদ্ধান্ত! সমাজের বাধা ধরা নিয়ম ভাঙায় কী ঘটে সুহাসিনীর সঙ্গে?
কী বলেছেন অভিনেত্রী?

Jun 19, 2026 | 12:04 PM

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রবীণ অভিনেত্রী সুহাসিনী মূলে (Suhasini Mulay) আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন যে, জীবনকে নিজের শর্তে বাঁচার কোনও নির্দিষ্ট বয়স হয় না। ‘লগান’, ‘যোধা আকবর’ কিংবা ‘দিল চাহতা হ্যায়’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবির এই অতি পরিচিত মুখ ৬০ বছর বয়সে এসে বিয়ের পিঁড়িতে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আর সেই ছকভাঙা প্রেমের গল্প কোনও সিনেমার চেয়ে কম আকর্ষণীয় নয়।

সাধারণত ডিজিটাল যুগের সোশাল মিডিয়া প্রেম বলতে আমরা তরুণ প্রজন্মকেই বুঝি। কিন্তু সুহাসিনীর ক্ষেত্রে গল্পটা আলাদা। এক সহ-অভিনেতার জোরাজুরিতে কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন তিনি। আর সেখানেই একদিন তাঁর স্ক্রিনে ভেসে ওঠে অতুল গুড়তু নামের এক ব্যক্তির প্রোফাইল। অতুল পেশায় একজন প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী, যিনি বিশ্ববিখ্যাত ‘লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার’ (LHC) প্রজেক্টে কর্মরত ছিলেন। বিজ্ঞানের প্রতি আজীবন টান থাকা সুহাসিনী কৌতূহলবশত অতুলকে মেসেজ করে বসেন, ‘LHC-র অর্থ কী?’। ব্যস, সেখান থেকেই শুরু মনের আদান-প্রদান।

 

অবশ্য সোশাল মিডিয়ার এই যুগে অচেনা মানুষকে বিশ্বাস করা সহজ ছিল না। সুহাসিনী নিজেই জানিয়েছেন, ভালো মেয়েরা অপরিচিতদের ফোন নম্বর দেয় না, এই রসিকতা করে প্রথমে নম্বর দেননি। এমনকি অতুলের অফিসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ঘেঁটে রীতিমতো ‘ব্যাকগ্রাউন্ড চেক’ করেছিলেন অভিনেত্রী। অবশেষে ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারি তাঁরা সাতপাকে বাঁধা পড়েন। মেয়ের ৬০ বছর বয়সে বিয়ের সিদ্ধান্ত শুনে তাঁর মা প্রথমে আকাশ থেকে পড়েছিলেন। জামাইকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কেন তিনি এই বয়সে বিয়ে করতে চান? অতুলের উত্তর ছিল মনে রাখার মতো, “আমরা দুজনেই একা থাকতে অভ্যস্ত। কিন্তু আমি ভালো থাকতে চাই।” আজ তাঁদের দাম্পত্য সফলভাবে ১৫ বছর পার করে গিয়েছে।

 

শুধু পরিণত বয়সে বিয়েই নয়, মাতৃত্ব নিয়েও অত্যন্ত স্পষ্ট ও সাহসী মানসিকতা রয়েছে সুহাসিনীর। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কখনও মা হওয়ার বাসনা তাঁর জাগেনি। তাঁর মতে, সন্তান আসার পর নিজের কেরিয়ার থেকে লক্ষ্য সরে যায়। ডিভোর্স হলে স্বামী বা সংসার থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব, কিন্তু সন্তানের প্রতি দায়িত্ব থেকে সহজে নিস্তার পাওয়া যায় না। তাই নিজের কেরিয়ারকে অগ্রাধিকার দিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

 

অভিনয় জীবনেও সুহাসিনী এক অনন্য নাম। মাত্র ১৮ বছর বয়সে কিংবদন্তি পরিচালক মৃণাল সেনের ‘ভুবন সোম’ ছবির মাধ্যমে তাঁর পথচলা শুরু। সত্যজিৎ রায় ও মৃণাল সেনের মতো দুই চলচ্চিত্র মহীরুহের সহকারী পরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। ৬০টিরও বেশি তথ্যচিত্র বা ডকুমেন্টারি প্রযোজনা করেছেন, যার মধ্যে ৪টির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৯৯ সালে গুলজারের ‘হু তু তু’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেত্রী হিসেবে পঞ্চম জাতীয় পুরস্কার পান তিনি। সমাজের চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের তোয়াক্কা না করে কীভাবে নিজের ইচ্ছেকে মর্যাদা দিতে হয়, সুহাসিনী মূলের জীবন যেন সেই শিক্ষারই এক জীবন্ত দলিল।

Follow Us