
গত দু’দশক ধরে ঐশ্বর্য রাই বচ্চন (Aishwarya Rai Bachchan) ছাড়া কান চলচ্চিত্র উৎসব ভাবতে পারেননা অনেকেই। অথচ, ২০২৬ সালের কান-এর রেড কার্পেটে হাঁটার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় তীব্র ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে এই বিশ্বসুন্দরীকে। তাঁর পোশাক থেকে শুরু করে বয়স ও ওজন, কোনও কিছুই বাদ যায়নি নিন্দুকদের চর্চা থেকে। তবে এবার এই অহেতুক বডি-শেমিংয়ের বিরুদ্ধে সরব হলেন বলিউডের ‘ধক ধক গার্ল’ মাধুরী দীক্ষিত। ‘দেবদাস’-এর সহ-অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে সোশাল মিডিয়ার বিষাক্ত সংস্কৃতিকে রীতিমতো ধুয়ে দিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে গলা মেলালেন তৃপ্তি দিমরি এবং কঙ্গনা রানাওয়াতও।
সোশাল মিডিয়ায় বর্তমানে কাউকে বিচার করার প্রবণতা যে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, একটি সাক্ষাৎকারে সেই প্রসঙ্গেই কথা বলেন মাধুরী। তিনি জানান, আগেও মানুষের এমন মানসিকতা ছিল, কিন্তু তখন মন্তব্য করার নির্দিষ্ট কোনও জায়গা ছিল না। এখন সোশাল মিডিয়ার দৌলতে যে কেউ যখন-তখন যা খুশি বলার প্ল্যাটফর্ম পেয়ে গিয়েছে। ঐশ্বর্যার হয়ে সওয়াল করে মাধুরী স্পষ্ট বলেন, “গত ২০ বছর ধরে কান-এর মঞ্চে সে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং গোটা দেশকে গর্বিত করেছে। তাকে কখনও শুধুমাত্র ওজনের কাঁটা, পোশাকের মাপ বা ক্যালেন্ডারের বয়সের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না।”
মাধুরীর মতে, ঐশ্বর্য শুধু বাইরে থেকে নয়, ভিতর থেকেও একজন অসম্ভব সুন্দর মানুষ। এই ধরনের কদর্য কটাক্ষ করে আজকের যুবসমাজের কাছে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, মানুষের যোগ্যতা তাঁর চেহারায় নয়, বরং তাঁর কৃতিত্বের ওপর নির্ভর করে।
এই বিতর্কে মুখ খুলেছেন তৃপ্তি দিমরিও। ঘরে বসে সহজেই অন্যের দিকে আঙুল তোলার কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। তৃপ্তি বলেন, “বাড়িতে আরাম করে পাজামা পরে বসে অন্যের সমালোচনা করা খুব সহজ। কিন্তু যাঁরা নিজেদের জীবনে এতটা পরিশ্রম করে একটা জায়গায় পৌঁছেছেন, তাঁদের জায়গায় দাঁড়িয়ে পরিস্থিতিটা বোঝা উচিত।” তাঁর মতে, অনন্যা পাণ্ডে হোক বা ঐশ্বর্য, এঁরা প্রত্যেকেই কঠোর পরিশ্রমী, তাই তাঁদের সম্মান প্রাপ্য, কোনও কটাক্ষ নয়।
এর আগে কঙ্গনা রানাওয়াতও ঐশ্বর্যার সমর্থনে এগিয়ে এসেছিলেন। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন যে, ঐশ্বর্য কান-এর মঞ্চে কাউকে খুশি করতে যাননি। বয়স্ক মহিলারা রেড কার্পেট বা জনসমক্ষে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করছেন, এটা দেখে যদি কারও অস্বস্তি হয়, তবে সেই অস্বস্তিতেই তাঁদের অভ্যস্ত হয়ে ওঠা উচিত বলে মন্তব্য করেন কঙ্গনা।
বলিউডের অভিনেত্রীদের এমন একজোট হয়ে প্রতিবাদ করাটা ডিজিটাল দুনিয়ায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রোলিংয়ের এই যুগে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর এই ছবি প্রমাণ করে দেয়, প্রতিভা ও বহু বছরের কঠিন পরিশ্রমের কাছে এই ধরনের সমালোচনা নিতান্তই অর্থহীন।