
সোশাল মিডিয়ার পাতায় যাঁর হাসিমুখ আর আদরের পোষ্য গরু ‘সুন্দরী’-র ভিডিয়ো নিমেষে মন ভালো করে দিত লাখ লাখ মানুষের, সেই প্রাণবন্ত তরুণী সায়নী চক্রবর্তী (Sayoni Chakraborty) আজ আর জীবিত নেই। কিন্তু তাঁর এই মর্মান্তিক অকাল প্রয়াণকে কেন্দ্র করে সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একপ্রকার বাধ্য হয়েই এবার মুখ খুললেন প্রয়াত সায়নী চক্রবর্তীর দিদি সুশ্রীতা চক্রবর্তী।
ভারাক্রান্ত হৃদয় এবং চোখেমুখে তীব্র ক্ষোভ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন সমাজের ‘মান’ আর ‘হুঁশ’ নিয়ে। একটি ভিডিয়ো বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “বোন কোনও কনটেন্ট বা রিচ বাড়ানোর বস্তু নয়। আপনারা তো মানুষ, মান আর হুঁশ, দুটোই কি হারিয়ে ফেলেছেন?” কারও অনুমতি বা কনসেন্ট ছাড়া একের পর এক ভিডিয়ো, ছবি এডিট করে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা শোকস্তব্ধ পরিবারের ওপর চরম মানসিক অত্যাচার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নেটিজেনদের উদ্দেশে একপ্রকার হুঁশিয়ারি দিয়ে দিদি বলেছেন, “এরপর মায়ের যদি কিছু হয়ে যায়, তার দায় কি আপনারা নেবেন?” সাইবার সাইকোলজি সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় মাত্রাতিরিক্ত চর্চা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম মানসিক চাপ বা পিটিএসডি (PTSD)-র ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সায়নীর পরিবারের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটছে।
ত্রিবেণীর বাসিন্দা মা মলি চক্রবর্তী এবং মেয়ে সায়নী, এই জুটির ভিডিয়োর অপেক্ষায় থাকতেন দর্শকরা। সদ্যই আইন নিয়ে পড়াশোনা (LLB) শেষ করেছিলেন তরুণী। কিন্তু আচমকাই সব শেষ। ত্রিবেণীর গঙ্গার ঘাট থেকে এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ তদন্ত করছে। তবে এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশাসন স্বতঃপ্রণোদিতভাবে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও সামনে আসেনি। মৃত্যুর ঠিক আগের দিনও পেজ থেকে সুন্দরীকে নিয়ে একটি ভিডিয়ো আপলোড করা হয়েছে, তাহলে হঠাৎ কী এমন ঘটল?
সায়নীর মৃত্যুর খবরের সঙ্গে সঙ্গেই নেটিজেনদের মনে পড়ে গিয়েছে সাম্প্রতিক একটি অভিজ্ঞতার কথা। কয়েকদিন আগেই নৈহাটির বড়মার মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল সায়নী এবং তাঁর মাকে। মন্দিরের অব্যবস্থা এবং ছবি তোলা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বচসায় জড়ান তাঁরা। মন্দিরের ভিতর থেকেই ফেসবুক লাইভ করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন সায়নী। সেই ভিডিয়ো ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। একাংশের দাবি ছিল, ভাইরাল হওয়ার জন্যই এই কাজ করা হয়েছে। যদিও সায়নীরা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, নতুন করে ভাইরাল হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই মর্মান্তিক পরিণতি রীতিমতো নাড়িয়ে দিয়েছে ডিজিটাল দুনিয়াকে। একদিকে পুলিশি তদন্ত, অন্যদিকে ডিজিটাল দুনিয়ার এই চর্চা— সব মিলিয়ে এক চরম অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে গোটা পরিবার।