
রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav), যাঁর মুখের একটা হাসিতেই হেসে কুটোপাটি হয় গোটা সিনেমাহল, সেই মানুষটার হাসির পেছনে লুকিয়ে থাকা কষ্টের খবর ক’জন রাখে? বিগত বেশ কিছু দিন ধরে চেক বাউন্স আর আইনি গোলমালের জেরে বারবার শিরোনামে উঠে এসেছে তাঁর নাম। সমালোচকরাও সুযোগ বুঝে শিল্পীর এত বছরের কেরিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি। তবে এবার আর চুপ রইলেন না পর্দার ‘ছোট পণ্ডিত’। সোজাসাপটা ভাষায় কড়া জবাব দিলেন নিন্দুকদের।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মনের ঝাঁঝ উগরে দিয়ে রাজপাল জানান, আর্থিক টানাটানি মানুষের জীবনে আসতেই পারে, কিন্তু তা দিয়ে কোনও শিল্পীর গোটা জীবনের মাপকাঠি বিচার করা যায় না। স্পষ্ট গলায় তিনি বলেন, “গ্রামের দিনগুলো থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যদি ১০০-২০০ জনের কাছেও আমার দেনা থাকে, সেই টাকা তাঁদের ঘরে ঠিক সময়ে পৌঁছে যাবে। সেই হিসেব আমার কাছে পরিষ্কার। কিন্তু সাময়িক টাকার টান পড়েছে বলে আমার গোটা কেরিয়ার নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলা হবে?”
নিজের আত্মবিশ্বাস আর ভক্তদের ভালোবাসার কথা মনে করিয়ে দিয়ে অভিনেতা বলেন, “বিপদে থাকি কিংবা আনন্দে, আমি কোনও এয়ারপোর্টে নামলে আজও ৫০০ জন মানুষ লাইন দিয়ে সেলফি তোলেন। কেউ আমাকে ৫ কোটি, ১০ কোটি বা ২৫০ কোটি টাকা দিয়েও কিনতে পারবে না! কারণ ছোটবেলা থেকেই আমি নিজেকে শিল্পের কাছে সঁপে দিয়েছি। টাকার জোরে রাজপাল যাদবকে কেনা অসম্ভব।” নিজেকে ভারতীয় সিনেমার আজীবন ছাত্র ও দায়িত্বশীল অভিনেতা মনে করা রাজপাল স্পষ্ট জানান, তিনি কোনওদিন হারিয়ে যাননি আর হারবেনও না।
তবে বাস্তবটা কিন্তু বেশ কঠিন। ‘মুরলী প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর সঙ্গে আর্থিক বিরোধের জেরে চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল ও তাঁর স্ত্রী রাধাকে আগেই দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। দিল্লি হাইকোর্টও সেই সাজা বহাল রাখে। বারবার সময় চেয়ে এবং কিছু টাকা মিটিয়েও পুরো বকেয়া মেটাতে না পারায় আদালত একসময় তাঁকে আত্মসমর্পণ করার কড়া নির্দেশ দেয়।
জীবনমঞ্চে একের পর এক আইনি ঝড় এলেও অভিনয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি রাজপাল। সম্প্রতি অক্ষয় কুমার ও সুনীল শেট্টির সঙ্গে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ ছবিতেও দর্শকদের ভরপুর বিনোদন দিয়েছেন তিনি। ২০০০ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত নিজের দীর্ঘ লড়াই আর অভিনয় যাত্রার অভিজ্ঞতা খুব তাড়াতাড়ি নতুন কাজের মাধ্যমে সবার সামনে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।