
বলিউডে পা রাখার পথটা যে সব সময় সুমসৃণ হয় না, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ নোরা ফাতেহি (Nora Fatehi)। আজ যাঁর স্টাইল আর নাচে কাবু বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ অনুরাগী, কেরিয়ারের একদম শুরুতে তাঁকেই পড়তে হয়েছিল মারাত্মক এক বিপদে। প্রথম ছবির সেটেই এক সহ-অভিনেতার সঙ্গে রীতিমতো হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন নোরা। কথা-কাটাকাটি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সেটের মধ্যেই শুরু হয়ে যায় চড়-থাপ্পড় আর চুল টানাটানি!
ঘটনাটি ২০১৪ সালের। কামাল সদানা পরিচালিত ‘রোর: টাইগার্স অফ দ্য সুন্দরবনস’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হচ্ছিল নোরার। সুন্দরবনের ঘন জঙ্গলে চলছিল পুরো টিমের শুটিং। ঠিক সেই সময়েই ঘটে যায় এই অনভিপ্রেত ঘটনা। সুন্দরবনে শুটিং চলাকালীন সেটের এক সহ-অভিনেতা নোরার সঙ্গে দুর্ব্যাবহার করেন। নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে নোরা সোজা গিয়ে ওই অভিনেতারগমল গালে একটা কষিয়ে চড় মারেন।
তবে গণ্ডগোল সেখানেই থেমে থাকেনি। নোরার হাত থেকে চড় খেয়ে ওই অভিনেতাও মারাত্মক খেপে যান। তিনি উল্টো নোরাকে থাপ্পড় মারেন এবং রাগের মাথায় তাঁর চুল ধরে সজোরে টান দেন। নোরাও কিন্তু ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী ছিলেন না! তিনিও পালটা ধরে টানেন ওই অভিনেতার চুল। শুটিং সেটে শুরু হয়ে যায় ধুন্ধুমার কাণ্ড। পরিস্থিতি হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ালে শেষ পর্যন্ত ছবির পরিচালককে নিজে এসে মাঝপথে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং দু’জনকে শান্ত করেন।
কয়েক বছর পর ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-তে এসে নিজের জীবনের এই শকিং অভিজ্ঞতার কথা খোলামেলাভাবে শেয়ার করেন নোরা। আয়ুষ্মান খুরানার সঙ্গে কাজের প্রচারে এসে আড্ডার ফাঁকে তিনি জানান, একসময় সেটে কতটা বাজে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। নোরার মুখে এই ঘটনা শুনে সঞ্চালক কপিল শর্মা মজা করে মন্তব্য করেন, “এমন লোকের তো কড়া শাস্তি হওয়া দরকার!” কপিলের কথায় সায় দিয়ে নোরা জানান, ওই সহ-অভিনেতার আচরণ সত্যিই অনভিপ্রেত ছিল।
উল্লেখ্য, ‘রোর: টাইগার্স অফ দ্য সুন্দরবনস’ ছবিটিতে অভিনব শুক্লা, আলিয়া কুলি মির্জার মতো শিল্পীরা অভিনয় করেছিলেন। সুন্দরবনের প্রকৃত লোকেশনের পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলেস ও থাইল্যান্ডের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাঘ এবং উন্নত প্রযুক্তির ভিএফএক্স ব্যবহার করে ছবিটি তৈরি হয়েছিল। তবে ছবির থ্রিলারের পাশাপাশি প্রথম ছবিতেই নোরার সেটের পেছনের এই অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা আজও বলিপাড়ায় এক চর্চিত বিষয়।