
জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক পলাশ মুচ্ছল (Palash Muchhal) এবার জড়িয়ে পড়লেন বড়সড় আইনি জটিলতায়। তফশিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের একটি মামলায় সাংলির সেশন কোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। অভিনেতা ও প্রযোজক বিজ্ঞান মানে তাঁর বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। আদালতের এই রায়ের পর পলাশের আইনজীবী অবশ্য পিছু হটতে নারাজ। তাঁরা এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঠিক কী ঘটেছে?
আইনি জটিলতার সূত্রপাত আসলে একটি আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে। জানা গিয়েছে, বিজ্ঞান মানে সাংলির বাসিন্দা এবং ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের তারকা স্মৃতি মন্ধানার ছোটবেলার বন্ধু। প্রসঙ্গত, স্মৃতির সঙ্গে পলাশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে তাঁদের বিয়ে ভেঙে যায়। বিজ্ঞানের অভিযোগ, একটি ফিল্ম প্রজেক্টের জন্য পলাশ মুচ্ছল তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় তিনি যখন নিজের টাকা ফেরত চান, তখন থেকেই সমস্যার শুরু।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ২২ নভেম্বর সাংলি-আষ্টা রোডের একটি টোল প্লাজায় দু’পক্ষের মধ্যে চরম বচসা হয়। বিজ্ঞানের দাবি, সেই তর্কাতর্কির সময় পলাশ মুচ্ছল তাঁকে জাতি তুলে চরম অপমানজনক মন্তব্য করেন। বিজ্ঞানের ভাষায়, “টাকা ফেরত চাইলে ও এড়িয়ে যেত। শেষ পর্যন্ত সামনাসামনি কথা বলতে গেলে এমন নোংরা ভাষা ব্যবহার করেছে যা ক্যামেরার সামনে বলাও সম্ভব নয়।” এই ঘটনার পরেই পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি এবং পুলিশ পলাশের বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি ও উপজাতি (প্রতিরোধ) আইনের ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করে।
অন্যদিকে, পলাশ মুচ্ছল অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞান মানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার একটি মানহানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পলাশের দাবি, তাঁর ভাবমূর্তি এবং চরিত্র নষ্ট করার জন্যই এই ধরনের ভিত্তিহীন ও মনগড়া অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আগাম জামিন খারিজ হওয়ার পর পলাশের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয় এবং জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।