
রগড়ানি দিবস টুইট মামলায় শুক্রবার তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর খারিজের আবেদন করতে হাইকোর্টে গিয়েছিলেন পরমব্রত। তবে হাইকোর্টে পরমব্রতর এই আবেদন খারিজ হয়নি। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে অভিনেতার বিরুদ্ধে কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি চালানো যাবে না। তবে মামলার তদন্তপ্রক্রিয়া এখনই থামছে না। পুলিশ তার কাজ চালিয়ে যাবে এবং অভিনেতাকে সেই তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
শুক্রবার বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। তিনি নির্দেশ দেন, পরবর্তী শুনানির দিন রাজ্য সরকারকে এই তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে আদালত।
২০২১ সালের ২ মে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সোশাল মিডিয়ায় একটি মন্তব্য করেছিলেন পরমব্রত। সেই মন্তব্যকে ঘিরেই বর্তমান বিতর্কের সূত্রপাত। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) গড়িয়াহাট থানায় অভিনেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।
পরমব্রতের আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায় আদালতে প্রশ্ন তোলেন, পাঁচ বছর আগের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে এতদিন পর কেন অভিযোগ দায়ের করা হলো?
এই অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই এবং ওই মন্তব্যের কারণে কারও কোনো ক্ষতিও হয়নি।
তাই ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ এবং ১০৯ ধারায় দায়ের হওয়া এই এফআইআরটি খারিজ করার আবেদন জানান তিনি। আদালত এফআইআর খারিজ না করলেও অভিনেতাকে চার সপ্তাহের আইনি সুরক্ষা দিয়েছে।
পরমের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছিল?
অভিযোগকারী আইনজীবী জয়দীপ সেনের দাবি, ২০২১ সালের ভোটের পর পরমব্রত সোশাল মিডিয়ায় একটি ‘উস্কানিমূলক’ পোস্ট করেছিলেন, যা সমর্থন করেছিলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ও। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই দুই তারকার বিরুদ্ধে গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ ঠুকেছেন তিনি।
অভিযোগকারী জানিয়েছেন, “তৎকালীন সময়ে ভোট-পরবর্তী হিংসায় উস্কানি দিয়েছিল পরমব্রত ওই মন্তব্য। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হওয়ায় তাঁদের কথায় প্রভাবিত হয়ে বহু মানুষ বিজেপি কর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছিল এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছিল।”
এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই দুই তারকাকে নোটিশ পাঠিয়েছিল। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় গত সপ্তাহে গড়িয়াহাট থানায় হাজিরা দেন এবং সেখানে তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অন্যদিকে, পরমব্রত আইনি সুরক্ষার খোঁজে আদালতের দ্বারস্থ হন।