
রিয়া চক্রবর্তী (Rhea Chakraborty)। নামটা শুনলেই ২০২০ সালের সেই তোলপাড় করা ঘটনাগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর মাদককাণ্ডে জড়িয়ে ২৮ দিন জেলে কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘ সময় পর সেই অন্ধকার দিনগুলো নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, জেলের বাইরের ঝকঝকে জগতের থেকে জেলের ভেতরের মানুষগুলো নাকি অনেক বেশি ভালো!
সম্প্রতি ইউটিউবার তন্ময় ভাটের শো-তে এসে নিজের জীবনের এই কঠিন সময় নিয়ে মন খুলে কথা বলেন রিয়া। তিনি জানান, জেলের পরিবেশ নিয়ে তিনি আগে যা ভেবেছিলেন, বাস্তবটা তার থেকে একদম আলাদা। অভিনেত্রীর কথায়, “আমার মনে হয় জেলের বাইরের থেকে জেলের ভেতরের মানুষ অনেক বেশি ভালো। সেখানে বিচারাধীন বন্দিদের মধ্যে বেশিরভাগ মহিলাই নির্দোষ। জেলের ভেতরে কোনও উঁচু-নিচু ভেদাভেদ নেই। সবার পরিচয় একটাই, সবাই সেখানে একটা নম্বর মাত্র। কারও আলাদা কোনও নাম নেই।”
কীভাবে সময় কাটাতেন জেলের ভিতর?
জেলের ভেতরের বেশ কিছু মজার স্মৃতিও সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। রিয়া জানান, সময় কাটাতে জেলের মহিলারা একসঙ্গে গান গাইতেন, নাচতেন। এমনকি মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত ঝাল খাবার ‘ঠেচা’-ও বানাতেন তাঁরা। জেলের খাবার নিয়ে মজা করতেও ছাড়েননি রিয়া। হাসতে হাসতে বলেন, “সেখানে তো সুশি, শ্যাম্পেন, বড়া পাও আর চাট পাওয়া যেত!” তিনি আরও জানান, এই পুরো অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই লিখছেন তিনি। মজার ছলে বইটির নামও ঠিক করে ফেলেছেন, ‘চুড়েল কা বদলা’ বা ডাইনির প্রতিশোধ। এমনটা তিনি কখনও ভাবেননি যে জেলের অভিজ্ঞতা এতটা অন্যরকম হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ মার্চ সিবিআই সুশান্ত মামলার ক্লোজার রিপোর্ট জমা দেয়। সেখানে সুশান্তের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয় এবং রিয়া পুরোপুরি ক্লিনচিট পান। এরপর তিনি নিজের পাসপোর্টও ফিরে পান। বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রথমবার বিদেশে যাওয়ার কথা বলতে গিয়ে রিয়া বলেন, “ইমিগ্রেশনে যখন আমাকে কেউ আটকাল না, তখন বেশ অবাক লেগেছিল। আমাকে যখন বলা হল, ‘ম্যাডাম আপনি যেতে পারেন’, তখন আমি যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।”
জেল থেকে ফেরার পর বলিউড ইন্ডাস্ট্রির মানুষের আচরণও অনেকটাই বদলে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন রিয়া। তিনি কোনও ঘরে ঢুকলেই নাকি সবার কথাবার্তা হঠাৎ খুব গম্ভীর হয়ে যেত। বর্তমানে করণ জোহরের ‘দ্য ট্রেইটরস ২’ রিয়্যালিটি শো-তে দেখা যাচ্ছে রিয়াকে। এ