
ছোটপর্দার সেই মিষ্টি ‘পটল’-কে মনে আছে তো? ‘পটলকুমার গানওয়ালা’ (Potol Kumar Gaanwala) ধারাবাহিকের সেই ছোট্ট মেয়েটি, যে নিজের সুরেলা জাদুতে আপামর বাঙালির মন জয় করে নিয়েছিল। সেই খুদে তারকা, অর্থাৎ অভিনেত্রী হিয়া দে (Hiya Dey) এবার বড়সড় বিপাকে। আপাতত তাঁর ঠিকানা হাসপাতালের ঠান্ডা ঘর। সোশাল মিডিয়ায় নিজেই শেয়ার করেছেন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকার ছবি। আর সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই মন খারাপ হিয়ার অনুরাগী মহলে।
পর্দার ‘পটল’ এখন আর সেই ছোট্টটি নেই। বর্তমানে সে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধূলাতেও তাঁর দারুণ উৎসাহ। আর এই খেলার নেশাই এবার কাল হল অভিনেত্রীর। জানা গিয়েছে, স্কুলে অনূর্ধ্ব-১৯ (U-19) কবাডি প্রতিযোগিতার জন্য জোরকদমে অনুশীলন চালাচ্ছিল হিয়া। সেই অনুশীলনের সময়ই আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায় সে। শরীরের সমস্ত ভর গিয়ে পড়ে হাতের কব্জিতে। ব্যস, হাড় একেবারে দু-টুকরো!
তবে পর্দার পটল বাস্তবেও বেশ ডানপিটে। হাত ভাঙার পরেও খেলার টানে প্রথমে যন্ত্রণা চেপে রেখেছিল সে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। শেষমেশ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে ধরা পড়ে যে কব্জির হাড় ভেঙে গিয়েছে। এই কাণ্ডের জন্য ডাক্তারের কাছে ভালো রকম বকুনিও খেতে হয়েছে হিয়াকে। মঙ্গলবারই তাঁর হাতে অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে।
অবশ্য হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও হিয়ার মুখের হাসি কিন্তু অমলিন। চোখে-মুখে চিন্তার লেশমাত্র নেই। উলটে ভাঙা হাত নিয়েই ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছে সে। ক্যাপশনে রসিকতা করে লিখেছে, ‘এর আগে এমন কুল রোগী দেখেছেন যার হাত ভেঙে গিয়েছে?’
প্রসঙ্গত, হিয়ার এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা অনুরাগীদের মনে পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। এর আগে ২০২৩ সালেও একটি বড়সড় অস্ত্রোপচার হয়েছিল তাঁর। সেই সময় তাঁর জরায়ুর পিছনে প্রায় ১৫ সেন্টিমিটারের একটি বড় টিউমার ধরা পড়েছিল। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সেবার অস্ত্রোপচার করে হিয়াকে সুস্থ করে তুলেছিলেন চিকিৎসকেরা। এবারও প্রিয় অভিনেত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করছেন তাঁর ভক্তরা। আশা করা যাচ্ছে, খুব তাড়াতাড়িই চোট সারিয়ে আবার চেনা ছন্দে ফিরবে সবার প্রিয় ‘পটল’।