
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া (Priyanka Chopra) এবং নিক জোনাসের একমাত্র মেয়ে মালতী মেরি জোনাস ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ার নয়নের মণি। সম্প্রতি লাস ভেগাসে নিকের মিউজিক শো-এর মহড়া চলাকালীন এক মিষ্টি মুহূর্তের সাক্ষী থাকল নেটপাড়া। বাবার গানের দলের সঙ্গে রীতিমতো তাল মিলিয়ে ড্রাম বাজাতে দেখা গেল একরত্তি মালতীকে। নিক জোনাস নিজেই তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে মেয়ের এই রকস্টার অবতারের একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করেছেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
ছবিতিতে দেখা যাচ্ছে, স্টেজের ব্যাকস্টেজে মস্ত বড় ড্রাম সেটের সামনে খুদে মালতী বেশ জমিয়ে বসেছে। তার খুদে হাতে ধরা ড্রামস্টিক। শুধু কি ড্রাম বাজানো? অন্য একটি ছবিতে তাকে পেশাদারদের মতো কানে হেডফোন লাগিয়ে, হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে গান শোনার ভঙ্গিতেও দেখা গিয়েছে। মেয়ের এই কাণ্ডকারখানা দেখে বাবা নিক জোনাসও নিজেকে সামলাতে পারেননি। ছবির ক্যাপশনে তিনি রসিকতা করে লিখেছেন, “হোয়াট হ্যাপেনস ইন ভেগাস…”। অর্থাৎ, লাস ভেগাসের মঞ্চে যে পর্দার আড়ালে এক চরম পারফরম্যান্স চলছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে আজ যাকে আমরা এত চঞ্চল এবং হাসিখুশি দেখছি, তার জন্মের সময়কার পরিস্থিতি কিন্তু একেবারেই সহজ ছিল না। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে সারোগেসির মাধ্যমে মালতীর জন্ম হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই পৃথিবীর আলো দেখেছিল সে। নিক জোনাস একটি পডকাস্টে পুরনো সেই কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে জানিয়েছিলেন, জন্মের সময় মালতীর ওজন ছিল মাত্র ১ পাউন্ড ১১ আউন্স (প্রায় ৭৬৫ গ্রাম)। জন্মের পরপরই তার শরীরের অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছিল যে, চিকিৎসকদের দ্রুত তাকে কৃত্রিম উপায়ে পুনরুজ্জীবিত (Resuscitate) করতে হয়েছিল।
করোনা আবহের মধ্যে টানা ১০০ দিন নবজাতক আইসিইউ-তে (NICU) কাটাতে হয়েছিল মালতীকে। প্রিয়াঙ্কা এবং নিক হাসপাতালে ১২ ঘণ্টার শিফটে ভাগ হয়ে মেয়ের পাশে থাকতেন। নিকের কথায়, “সে এক ভীষণ কঠিন বাস্তব ছিল। তবে এনআইসিইউ-এর নার্সরা ঈশ্বরের দূত ছিলেন, যাঁরা আমার মেয়েকে নতুন জীবন দিয়েছেন।” আজ সেই সমস্ত কঠিন সময় পার করে মালতী মেরি পুরোপুরি সুস্থ ও প্রাণবন্ত। বাবা নিকের মিউজিক্যাল ট্যুরের সবচেয়ে মিষ্টি সঙ্গী এখন সে-ই। বাবার গানের মহড়ায় তার এই ড্রামার রূপ দেখে নেটিজেনরা বলছেন, মায়ের মতো অভিনয়ে না হলেও, বাবার মতো সঙ্গীতের দুনিয়া কাঁপাতে এখনই তৈরি হচ্ছে জুনিয়র জোনাস!