
টলিউডের বাণিজ্যিক ছবির সফলতম পরিচালকের নামগুলোর তালিকায় তিনি প্রথম সারিতে। তাঁর হাত ধরে বদলে গিয়েছিল বাংলা সিনেমার চেনা সমীকরণ। দিন বদলে সেই রাজ চক্রবর্তী কেবল ক্যামেরার নেপথ্যের কারিগর ছিলেন না, ছিলেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম তারকাপ্রার্থী মুখ। যাঁর হাতে দ্বিতীয়বার ব্যারাকপুরের দায়িত্ব সঁপেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও ২০২১ -এ বিধানসভায় রাজ তারকা প্রার্থী হলেও, এবারটি রাজ নিজেকে তারকা নয়, বরং বিধায়ক হিসেবেই প্রচার করতে চেয়েছিলেন। করেও ছিলেন। কিন্তু ভোটের ফলাফলে সব অঙ্কই বদলে গেল। বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর কাছে হার মানতে হল রাজকে। বারাকপুরের এতদিনের রাজের রাজত্বের অবসান ঘটল।
ভোটে পরাজয়ের পর রাজের স্ত্রী তথা অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, তাঁকে সুপারহিরো তকমা দিয়ে ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ ছিলেন চুপ। তবে বৃহস্পতিবার অবশেষে নিস্তব্দতা ভাঙলেন রাজ। সোশাল মিডিয়ায় স্পষ্ট করলেন তাঁর মনের কথা।
সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মধ্যে দিয়ে রাজ লিখলেন, ”জীবনে যখনই কোনো দায়িত্ব পেয়েছি, নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে পালন করেছি। চেষ্টা করেছি নিজের সবটুকু দেবার। একজন পরিচালক হিসেবে সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে সব সময় আনন্দ দেবার চেষ্টা করেছি। কখনও জিতেছি, কখনও হেরেছি।”
রাজ আরও লেখেন, ”২০২১-এ আমার রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ। মানুষ আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন কাজ করার। পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে সেভাবেই বিধায়কের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে গেছি। সে অধ্যায় শেষ হলো ২০২৬-এ। সঙ্গে শেষ হল আমার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা।”
রাজের কথায়, ”বাংলার মানুষের মতে বাংলায় নতুন সরকার এসেছে। আগামী ৯ই মে, ২০২৬, তারা শপথ নেবেন। তাদের জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করবো, আপনাদের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে যাবে উন্নতির পথে। মানুষের সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে। সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।”