
রণবীর সিং (Ranveer Singh) বর্তমানে খবরের শিরোনামে, তবে তাঁর নিজস্ব স্টাইল স্টেটমেন্ট বা সিনেমার বক্স অফিস কালেকশনের জন্য নয়। বরং ‘ডন ৩’ (Don 3) নিয়ে তৈরি হওয়া এক মেগা-বিতর্ক তাঁকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে। এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের বহু প্রতীক্ষিত এই প্রজেক্ট থেকে তাঁর আচমকা বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে বলিউডে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (FWICE) রণবীরের বিরুদ্ধে ‘অসহযোগিতা’র নির্দেশ জারি করেছে। কখনও কি ভাবা গিয়েছিল, ডনের সিংহাসনে বসার আগেই এমন পেশাদারি গ্যাঁড়াকলে পড়বেন বাজিরাও?
বিতর্কের সূত্রপাত ফারহান আখতার ও রীতেশ সিধওয়ানির একটি চাঞ্চল্যকর দাবি থেকে। প্রযোজকদের অভিযোগ, অভিনেতার প্রতিশ্রুতির উপর ভিত্তি করে ছবির প্রি-প্রোডাকশনের কাজে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৫ কোটি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। ফেডারেশনের তরফ থেকে রণবীরকে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য একাধিকবার ডাক পাঠানো হলেও, তিনি নাকি কোনও সাড়া দেননি। আর তাতেই চটেছে FWICE। সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা অশোক পণ্ডিত অবশ্য আইনি দিকটি মাথায় রেখে জানিয়েছেন, এটি কোনও আক্ষরিক ‘নিষেধাজ্ঞা’ বা ব্যান নয়। তবে তাঁদের আওতাভুক্ত ৩০টি ক্রাফটের সঙ্গে যুক্ত কোনও সদস্যই আপাতত রণবীরের সঙ্গে কাজ করবেন না। অভিনেতার মুখপাত্র অবশ্য এক বিবৃতি জারি করে জানিয়েছেন, রণবীর ফিল্ম ফ্র্যাটার্নিটির প্রতি অগাধ সম্মান রাখেন এবং কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে না গিয়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে নীরবতা বজায় রাখছেন।
এই ডন-বিতর্কের আঁচ এবার ছড়িয়ে পড়েছে গোটা টিনসেল টাউনে। ১৯৯১ সালের ভারতের অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া আগামী ছবি ‘গভর্নর’-এর ট্রেলার লঞ্চে এসে এই নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন মনোজ বাজপেয়ী (Manoj Bajpayee)। খুব সাবধানে পা ফেলে তিনি জানান, ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই পুরো বিষয়টি সোশাল মিডিয়া মারফত জেনেছেন। তাঁর কথায়, “আমাদের কাছে বিস্তারিত কোনও তথ্য নেই। তবে সহকর্মী হিসেবে আমরা সকলেই চাইছি, এই সমস্যার যেন খুব দ্রুত সমাধান হয়ে যায়।”
তবে এই বয়কট কালচারে নবতম সংযোজন রণবীর হলেও, ইতিহাস বলছে বলিউডে এর চল বহু পুরনো। আর এই প্রসঙ্গেই নিজের পুরনো এক মজার কিন্তু তিক্ত স্মৃতি হাতড়েছেন অভিনেতা চাঙ্কি পান্ডে (Chunky Panday)। ১৯৮৭ সালে ‘আগ হি আগ’ ছবির শুটিং চলাকালীন গোটা ইন্ডাস্ট্রিতে ধর্মঘট চলছিল। তা সত্ত্বেও প্রযোজক পহলাজ নিহালানির সঙ্গে বেঙ্গালুরু ও উটিতে শুটিং চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। চাঙ্কি হাসতে হাসতে ফাঁস করেন, “ওই ছবিতে ধর্মেন্দ্রজি এবং শত্রুঘ্ন সিনহাজি-র মতো সুপারস্টাররাও ছিলেন। কিন্তু ওঁদের ব্যান করা তখন কারও পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই বলির পাঁঠা হলাম আমি! নবাগত ছিলাম বলে এক সপ্তাহের জন্য আমাকে ব্যান করা হল।” সব মিলিয়ে, ‘ডন ৩’ বিতর্ক যে এখনই থামছে না, তা বেশ বোঝাই যাচ্ছে।