
একদিকে ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে ধ্রুব রাঠির ‘নির্বাচনী বিজ্ঞাপন’ কটাক্ষ, অন্যদিকে বক্স অফিসে সাফল্যের জয়জয়কার— এই দুইয়ের টানাপোড়েনের মাঝেই হঠাৎ নাগপুরে হাজির রণবীর সিং। শুক্রবার জামনগর থেকে মুম্বই ফেরার পথে অভিনেতা সরাসরি পৌঁছে যান রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সদর দপ্তরে। সেখানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ বৈঠক এখন টিনসেল টাউন থেকে দিল্লির অলিন্দে আলোচনার একমাত্র বিষয়।
বলিউড সূত্রে খবর, শুক্রবার বিকেল ৪টে নাগাদ চার্টার্ড বিমানে নাগপুর পৌঁছন রণবীর। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তায় তিনি সোজা চলে যান রেশিমবাগের ‘হেডগেওয়ার স্মৃতি মন্দির’ চত্বরে। আরএসএস প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করার পর প্রায় বেশ কিছুক্ষণ সেখানে সময় কাটান অভিনেতা। এরপরই দপ্তরের অন্দরে মোহন ভাগবত ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। রাত ৮টা নাগাদ কাজ সেরে ফের মুম্বইয়ের বিমানে ওঠেন অভিনেতা।
‘ধুরন্ধর ২’ ছবিটিকে অনেকেই ‘পদ্ম শিবিরের প্রচারঝলক’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এই ছবি আদতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক আদর্শকে তুলে ধরতেই তৈরি। এমন এক সময়ে আরএসএস প্রধানের সঙ্গে রণবীরের এই সাক্ষাৎ কি নিছকই সৌজন্যমূলক, নাকি এর গভীরে লুকিয়ে আছে বড় কোনো ইঙ্গিত? সংঘের পক্ষ থেকে এই বৈঠক নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, যা রহস্য আরও বাড়িয়েছে।
ভারতীয় রাজনীতিতে বিনোদন জগতের তারকাদের যোগদান নতুন কিছু নয়। অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে হেমা মালিনী, জয়া বচ্চন কিংবা বর্তমান প্রজন্মের কঙ্গনা রানাওয়াত— অনেকেই অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দান সামলেছেন। মোহন ভাগবতের সঙ্গে রণবীরের এই বৈঠক কি তবে তাঁর গেরুয়া শিবিরে যোগদানের প্রথম ধাপ? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে রণবীরের অভিনীত ‘হামজা আলি’ চরিত্রটি যে দেশপ্রেমের ভাবাবেগ তৈরি করেছে, তাকে হাতিয়ার করেই কি কোনো বড় চমক আসতে চলেছে? উত্তর আপাতত সময়ের গর্ভে, তবে রণবীরের নাগপুর সফর যে নিছক ‘কাকতালীয়’ নয়, তা একপ্রকার নিশ্চিত।