
বলিউড তারকা রবিনা ট্যান্ডনের বাড়িতে চুরি! আপন ভেবে যাঁকে বাড়িতে জায়গা দিয়েছিলেন, সেই ‘কাছের মানুষ’-ই যে এমন বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি রবিনা ট্যান্ডন ও তাঁর পরিবার। অভিনেতার মায়ের ২৫ লক্ষ টাকার গয়না ও বহুমূল্য ঘড়ি চুরি করার অভিযোগে এক মহিলাকে গ্রেফতার করল মুম্বইয়ের জুহু পুলিশ।
কীভাবে আস্থা অর্জন করেছিলেন অভিযুক্ত?
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম রাশি ছাবরিয়া। ৪৭ বছর বয়সি এই মহিলা ২০২০ সাল থেকে রবিনা ট্যান্ডনদের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। দীর্ঘ চার বছর ধরে অভিনেত্রীর মায়ের সেবাযত্ন করে ধীরে ধীরে গোটা পরিবারের আস্থা অর্জন করে নিয়েছিলেন তিনি। রবীনার মায়ের প্রায় ছায়াসঙ্গী হয়ে উঠেছিলেন রাশি। কিন্তু কে জানত, সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই এমন বড়সড় হাতসাফাইয়ের ছক কষছিলেন তিনি! কারও মনে কোনও সন্দেহ তৈরি না করেই দিনের পর দিন এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন ওই মহিলা।
ঠিক কী ঘটেছিল? পুলিশ জানিয়েছে, ওই অভিযুক্ত মহিলা রবিনার মায়ের ঘরের লকার ভেঙে সোনার ও হিরের গয়নাসমেত দু’টি অত্যন্ত দামি ঘড়ি চুরি করেন। সব মিলিয়ে খোয়া গিয়েছে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার সম্পত্তি। লকার থেকে বহুমূল্য সামগ্রী উধাও হতে দেখে প্রথমে পরিবারের সদস্যদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ির সবথেকে কাছের পরিচারিকার ওপর সন্দেহ গিয়ে পড়ে পরিবারের। কিন্তু তাঁকে এ বিষয়ে প্রথমবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি পুরো বিষয়টিই অস্বীকার করেন। তিনি জানান যে, এই চুরির বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও খবর নেই এবং তিনি কখনও লকারের ধারেকাছেও যাননি।
রাশির বয়ানে রবিনার পরিবারের সন্দেহ আরও গাঢ় হয়। উপায় না দেখে সোজা জুহু পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁরা। সেখানে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত রাশিকে আটক করে। লাগাতার পুলিশি জেরার মুখে পড়ে শেষমেশ ভেঙে পড়েন তিনি। পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ কবুল করে নেন ওই মহিলা।
ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের কাছ থেকে চুরি যাওয়া কয়েকটি দামি ঘড়ি উদ্ধার করা গিয়েছে। তবে বাকি সোনার ও হিরের গয়না ঠিক কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তা জানতে জোরদার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। বলিউড তারকাদের বাড়িতে চুরির ঘটনা অবশ্য নতুন কিছু নয়। তবে দীর্ঘদিনের পরিচিত ও বিশ্বাসভাজন কারও এমন কীর্তিতে স্বাভাবিকভাবেই বেশ হতবাক রবিনা ও তাঁর পরিবার। আপাতত পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন ওই অভিযুক্ত। জুহু পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, খুব দ্রুতই বাকি গয়না উদ্ধার করা সম্ভব হবে।