
বলিউড অভিনেত্রী সোনালী বেন্দ্রে (Sonali Bendre) যখন মারণ রোগ ক্যানসারকে জয় করে রুপোলী পর্দায় ফিরেছিলেন, তখন ভক্তদের আনন্দের সীমা ছিল না। কিন্তু কামব্যাকের পর থেকেই নিজের কাজের ক্ষেত্রে একটি নিয়ম তৈরি করে নিয়েছিলেন এই ‘দিলজলে’ খ্যাত নায়িকা। তিনি ঠিক করেছিলেন, কোনও ডার্ক বা নেতিবাচক চরিত্রে আর অভিনয় করবেন না। অথচ ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া তাঁর সাম্প্রতিক সিরিজ ‘রাখ’ (Raakh) কিন্তু বেশ ডার্ক একটি গল্প। কেন নিজেরই তৈরি করা সেই কড়া নিয়ম ভেঙে এই সিরিজে অভিনয় করতে রাজি হলেন সোনালী? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই আসল কারণ খোলসা করেছেন অভিনেত্রী নিজেই।
২০১৮ সালে যখন সোনালীর শরীরে থার্ড স্টেজ মেটাস্ট্যাটিক ক্যানসার ধরা পড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই জীবনটা ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। কঠিন লড়াই শেষে ২০২২ সালে ‘দ্য ব্রোকেন নিউজ’ সিরিজের মাধ্যমে অভিনয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন তিনি। তবে সুস্থ হয়ে ফেরার পর তাঁর মানসিকতা পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। সোনালী জানিয়েছেন, জীবনের একটা দীর্ঘ সময় অত্যন্ত কঠিন এবং অন্ধকারের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে তাঁকে। সেই কারণেই সুস্থ হয়ে ফেরার পর তিনি এমন কিছু কাজ করতে চেয়েছিলেন যা তাঁকে মানসিকভাবে হালকা রাখবে, আনন্দ দেবে। ‘লাভ কে লিয়ে কুছ ভি করেগা’-র মতো মজার ছবিতে কাজ করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। অভিনেত্রী স্পষ্ট বলেন, “আমি এমন কাজ করতে চেয়েছিলাম যা আমাকে নতুন করে কোনও মানসিক অবসাদের দিকে ঠেলে দেবে না।”
তা হলে হঠাৎ ‘রাখ’-এর মতো একটা মনখারাপ করা সিরিজে অভিনয় করতে কেন রাজি হলেন? সোনালী নিজেই স্বীকার করেছেন, এই ওটিটি সিরিজের চিত্রনাট্য তাঁর সব পরিকল্পনা ওলটপালট করে দিয়েছে। গল্প এবং তাঁর চরিত্রটি এতটাই দুর্দান্ত ছিল যে, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পরিচালকের মুখের ওপর ‘না’ বলতে পারেননি তিনি। সহ-অভিনেতা আলী ফজলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও ছিল চমৎকার। তবে এই সিরিজে নিজের স্ক্রিন টাইম নিয়ে খুব একটা খুশি নন সোনালী। তাঁর মতে, পর্দায় সোনালীর চরিত্রটিকে আরও কিছুটা বেশি সময় দেখানোর সুযোগ ছিল।
তবুও এই কাজের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন নব্বইয়ের দশকের এই জনপ্রিয় নায়িকা। তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে গল্প বলার ধরন অনেক বদলে গিয়েছে। ওটিটির হাত ধরে এখন যেকোনও বয়সের অভিনেতারা চমৎকার সব চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন, যা আগেকার দিনে ভাবাই যেত না। আপাতত এই নতুন ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে বেশ ভালো জায়গাতেই রয়েছেন সোনালী।