
রিয়া চক্রবর্তী (Rhea Chakraborty)-র জীবন ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল ২০২০ সালে। অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর সামাজিক মাধ্যমের তীব্র আক্রমণ, আইনি টানাপোড়েন আর ট্রমার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই কঠিন সময় পেরিয়ে, দীর্ঘ চার বছরের থেরাপির সাহায্যে নিজেকে নতুন করে চিনেছেন তিনি। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রিয়া অকপটে জানিয়েছেন, এত কিছুর পরেও তিনি জীবন থেকে হারিয়ে যাননি, বরং এখনও ভালোবাসায় বিশ্বাস করেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রিয়া তাঁর জীবনের এই পরিবর্তনের কথা শেয়ার করেছেন। তিনি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত। মজার ছলে রিয়া বলেন, “আমার বন্ধুরা ইয়ার্কি করে বলে, আমি নাকি ৩৩ বছরের একটা শরীরে আস্ত এক ৮০ বছরের বৃদ্ধা! কারণ, এই অল্প বয়সে আমি যা যা দেখেছি, তা হয়তো অনেকেই সারাজীবনে ভাবতেও পারেন না।” জীবনের এই নির্মম অভিজ্ঞতাগুলো তাঁকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। তবে কোনও তিক্ততা বা ক্ষোভকে মনের মধ্যে পুষে রাখতে চাননি তিনি। রাগ বা অভিমান কখনও সখনও হলেও, থেরাপির মাধ্যমে তিনি সেই অন্ধকার কাটিয়ে উঠেছেন।
৪ বছরের থেরাপি ও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই
ট্রমা কীভাবে একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবন কেড়ে নিতে পারে, তা রিয়া খুব ভালো করেই জানেন। তবে নিজেকে সেই অন্ধকারের গ্রাসে সঁপে দিতে চাননি এই অভিনেত্রী। রিয়ার কথায়,
“গত চার বছর ধরে আমি নিয়মিত থেরাপি করাচ্ছি। এই থেরাপির সাহায্যেই আমি বুঝতে পারছি যে আমি ঠিক কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। ট্রমা যাতে আমার ব্যক্তিত্বকে গ্রাস করতে না পারে, সেই লড়াইটাই চালিয়ে যাচ্ছি। আমি এখনও দয়ালু হতে চাই, এখনও ভালোবাসায় বিশ্বাস রাখতে চাই। এই পৃথিবী কেন শুধু আমাকেই এই কষ্টের জন্য বেছে নিল, এই ভেবে বসে থাকতে আমি রাজি নই। আমি কেবলই একজন সাধারণ মেয়ে, যে নিজের মতো করে বাঁচতে চায়, কাজ করতে চায়।”
২০২০ সালের সেই ভয়াবহ ঝড়ের পর রিয়ার কাছের মানুষের বৃত্তটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তিনি মনে করেন, তিনি বন্ধুদের বেছে নেননি, বরং বন্ধুবান্ধবরাই তাঁকে বেছে নিয়েছে। জীবনের কঠিনতম সময়ে যাঁরা তাঁর হাত ছাড়েনি, আজ তাঁদেরই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস ও ভালোবাসেন রিয়া। তিনি আরও জানান, তিনি শুধু রোমান্টিক দিক থেকেই নয়, সার্বিকভাবেই আরও মন খুলে মানুষকে ভালোবাসতে চান, যদিও পুরোপুরি সেই জায়গায় পৌঁছতে এখনও হয়তো কিছুটা সময় লাগবে।
প্রসঙ্গত, সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর রিয়াকে মাদক মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করেছিল এনসিবি। পরে তিনি জামিন পেলেও দীর্ঘ সময় নানা আইনি বিধিনিষেধের মধ্যে কাটাতে হয়েছে। তবে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে রিয়া প্রমাণ করে দিলেন, ট্রমা যতই গভীর হোক না কেন, সঠিক মানসিক যত্ন আর থেরাপির সঙ্গে জীবনের মূল স্রোতে আবারও ফেরা সম্ভব।