
সলমন খান (Salman Khan) পর্দার সামনে যতই কড়া মেজাজে হাজির হোন না কেন, বাস্তবের মাটি তে তিনি যে ভীষণ আবেগপ্রবণ, তা আরও একবার প্রমাণ হল। প্রিয় মানুষকে হারানোর যন্ত্রণার চেয়ে বড় কষ্ট বোধহয় আর কিছুই হয় না। আর সেই স্বজনবিয়োগের তীব্র যন্ত্রণায় এবার ক্যামেরাবন্দি হলেন বলিউডের ‘ভাইজান’। মুম্বইয়ের এক শ্মশান থেকে বেরোনোর সময় অনবরত চোখের জল মুছতে দেখা গেল অভিনেতাকে। দীর্ঘদিনের অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধু কুমুদ রানের (Kumod Rane) শেষকৃত্যে এসে নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারলেন না তিনি।
মঙ্গলবার মুম্বইয়ের শ্মশানে কুমুদ রানের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেখানে সলমন খানের পরনে ছিল সাধারণ ধূসর রঙের শার্ট, মুখে খোঁচা দাড়ি এবং চোখে-মুখে স্পষ্ট বিধ্বস্ততার ছাপ। কঠিন এই সময়ে বন্ধুর পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল গোটা খান পরিবার। সলমনের সঙ্গে তাঁর মা সলমা খান এবং হেলেনও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সোহেল খান, আরবাজ খানের ছেলে আরহান এবং নির্বাণ খান। শোকের মুহূর্তে শামিল হতে দেখা গিয়েছে সীমা সাজদেহকেও।
টিনসেল টাউনের অন্যান্য তারকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অমৃতা অরোরা, তাঁর স্বামী শাকিল লাদাক, মা জয়েস অরোরা, চাঙ্কি পাণ্ডে, সঞ্জয় কাপুর, মহীপ কাপুর এবং প্রযোজক নিখিল দ্বিবেদী। খান পরিবারের সঙ্গে কুমুদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। গত বছরের বর্ষবরণের রাতেও এই প্রিয় বন্ধুর সঙ্গেই কাটানো মূহুর্ত ভাগ করে নিয়েছিলেন সলমন।
উল্লেখ্য, গত মাসেই এই বন্ধুকে মুম্বইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন সলমন। সেই সময়ে হাসপাতালের বাইরে পাপারাৎজ্জিদের অতিসক্রিয়তা দেখে প্রচণ্ড চটে যান অভিনেতা। ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন মুহূর্তে ক্যামেরা তাক করা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। যদিও পরে একটি সিনেমার সাফল্য উদযাপনের অনুষ্ঠানে পাপারাৎজ্জিরা সলমনের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিগত কয়েক বছর ধরে সলমনের জীবনে যেন ওলটপালট লেগেই রয়েছে। কখনও এসেছে খুনের হুমকি, কখনও আবার কাছের মানুষদের আকস্মিক প্রয়াণ। মাসখানেক আগেই তিনি হারিয়েছেন তাঁর ৪২ বছরের পুরনো বন্ধু সুশীল কুমারকে। তার কিছু সময় আগে বাবা সিদ্দিকীর নির্মম হত্যাকাণ্ডও মানসিকভাবে গভীর আঘাত দিয়েছিল সলমনকে। বলিপাড়ায় একটা কথা প্রচলিত আছে, সলমন যার বন্ধু হন, তার জন্য তিনি সব করতে পারেন। কিন্তু বাস্তব জীবনের নিয়মে একের পর এক প্রিয় বন্ধুর চলে যাওয়া যেন ভাইজানকে ক্রমেই একাকী করে তুলছে।