
‘মহাভারত’ ধারাবাহিকে অর্জুনের চরিত্রে অভিনয় করে কোটি কোটি মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন অভিনেতা শাহীর শেখ (Shaheer Sheikh)। যে চরিত্রটি তাঁকে রাতারাতি সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল, তার পেছনে লুকিয়ে ছিল ভীষণ ভয় আর মানসিক চাপ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই পুরনো কথা মনে করে অভিনেতা জানান, ‘মহাভারত’ শুরুর দিন প্রযোজক একটি বিশেষ পার্টির আয়োজন করেছিলেন। সেখানে উপস্থিত সবার উন্মাদনা আর ভূয়সী প্রশংসা দেখে হঠাৎই প্রচণ্ড নার্ভাস হয়ে পড়েন শাহীর। চারপাশের মানুষের এতো ভালোবাসার চাপ সামলাতে না পেরে তিনি সোজা বাথরুমে ঢুকে নিজেকে লক করে দেন। এরপর প্রায় ১৫-২০ মিনিট একা বসে কেঁদে ভাসান তিনি।
সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করে শাহীর বলেন, “আমি ‘মহাভারত’-এ অর্জুনের চরিত্রে অভিনয় করার সময় ভীষণ ভয়ে ছিলাম। এই প্রথমবার আমরা কোনও শো-এর জন্য টানা দেড় বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এটি একটি বিশাল দায়িত্ব ছিল এবং আমার ভুল করার কোনও সুযোগ ছিল না। সব দিক থেকে তৈরি থাকা সত্ত্বেও আমি দারুণ নার্ভাস ছিলাম।”
গ্ল্যামার জগতের পেছনের কঠিন লড়াই নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। মুম্বাইয়ের এই চকচকে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডেও তিনি যে আজও সাধারণ জীবন কাটান, সে কথা জানিয়ে শাহীর বলেন, “আমি এখনও সারভাইভাল মোডেই আছি। এমন নয় যে আমি একবারে পোক্ত জায়গায় পৌঁছে গিয়েছি, কঠোর পরিশ্রম এখনও চলছে। আমি কোনও বিশেষ জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ি না; নিজেকে বাস্তবতার মুখোমুখি রাখি। আমি খুব কম জিনিসে, এমনকি প্রায় কিছু না থাকলেও বেঁচে থাকতে পারি। নিজেকে সেভাবেই তৈরি করেছি। খুব সম্প্রতি ১ থেকে ২ বছর আমার হাতে কোনও কাজ ছিল না এবং আমাকে এমন কাজও করতে হয়েছে যা হয়তো আমি করতে চাইনি।”
অতীতে ‘নব্য’ ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পর এবং ‘মহাভারত’-এর কাজ শুরু হওয়ার মাঝে প্রায় এক বছর কাজ ছিল না তাঁর। সেই কঠিন দিনে সংসার চালাতে বন্ধুদের পোর্টফোলিও শুট করে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে টাকা রোজগার করতে শুরু করেছিলেন তিনি।
পরবর্তীকালে ‘কুছ রঙ পেয়ার কে অ্যায়সে ভি’ বা ওটিটি-র ‘দো পাত্তি’-র মতো হিট প্রজেক্টে কাজ করলেও নিজেকে কখনও সুপারস্টার ভাবেননি তিনি। তারকা হওয়া প্রসঙ্গে শাহীরের বক্তব্য, “প্রখ্যাত হওয়া আমার লক্ষ্য নয়। আমি সুপারস্টার হতে চাই না। টেলিভিশন আমাকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছাতে এবং তাঁদের মনোরঞ্জন করতে সাহায্য করে। একজন অভিনেতা হিসেবে এটাকে আমি বড় দায়িত্ব মনে করি।”