
‘বিগ বস বাংলা’র বর্তমান মরশুমে অন্যতম চর্চিত প্রতিযোগী তিনি। প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা তাপস পালের মেয়ে সোহিনী পাল (Sohini Paul) নিজের ব্যক্তিত্ব ও সাবলীল অভিনয় দিয়ে ইতিমধ্যেই জয় করে নিয়েছেন অগণিত দর্শকের মন। তবে শুরু থেকেই একটি বিষয় চোখ এড়ায়নি অনুরাগীদের—প্রতিদিনই একটি ঢিলেঢালা, ওভারসাইজড জিনসের জ্যাকেট গায়ে জড়িয়ে ফ্লোরে ঘুরে বেড়ান সোহিনী।
সাধারণত গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকারা যেখানে বারবার পোশাক বদলান, সেখানে সোহিনীকে কেন রোজ একই পোশাকে দেখা যায়? তবে কি এটি কোনও ফ্যাশন স্টেটমেন্ট? নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও গল্প? সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় এক পোস্টের মাধ্যমে এই বিশেষ জ্যাকেটের রহস্য সামনে আনলেন করলেন সোহিনীর মা নন্দিনী মুখোপাধ্যায় পাল। আর সেই অজানা কাহিনি শুনে চোখ ভিজেছে নেটিজেনদের।
তাপস পালের সঙ্গে মেয়ের বেশ কিছু স্মৃতিবিজড়িত ছবি শেয়ার করে নন্দিনী দেবী লেখেন, “প্রথম ছবিটা যখন তোলা হয়, সোহিনীর বয়স তখন মাত্র চার বছর। বাবার সঙ্গে দার্জিলিংয়ে আউটডোর শুটিংয়ে যাচ্ছিল সে। দ্বিতীয় ছবিটা ২০১৫ সালের, তাপসের নিজের। আর শেষ ছবিটি ২০২৬-এর, আমার ছোট্ট মেয়ের। এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও সেই একই জ্যাকেট আজও ওর গায়ে।”
বছরের পর বছর ধরে তাপস পালের ব্যবহার করা সেই পুরনো জ্যাকেটটি সযত্নে আগলে রেখেছেন সোহিনী। আলমারিতে অসংখ্য নতুন পোশাক থাকা সত্ত্বেও এটিকেই বারবার গায়ে জড়িয়ে নেন তিনি। মায়ের কথায়, “আমি কোনওদিন ওকে জিজ্ঞেস করিনি কেন ও এই জ্যাকেটটা পরে। ও-ও কখনো বলেনি। কিন্তু মা হিসেবে সব কথা মুখে শোনার প্রয়োজন হয় না, কিছু জিনিস ভেতর থেকে অনুভব করা যায়।”
নন্দিনী পালের মতে, “হয়তো এই জ্যাকেটের সুতোয় সোহিনী আজও তার বাবার গায়ের গন্ধ খুঁজে পায়। কানের কাছে হয়তো বাজে বাবার সেই পুরনো আশ্বাস—‘আমি তো আছি’। এটা শুধুই একটা জ্যাকেট নয়, ওর কাছে একটা নীরব আশ্রয় বা ‘বাড়ি’। বাবার সেই উষ্ণ আলিঙ্গন যা ও এখনও প্রতি মুহূর্তে গায়ে জড়িয়ে নিতে পারে। ‘বিগ বস’-এর ঘরে ওয়েক আপ গান বাজলেই যখন দেখি ও জ্যাকেটটা জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে, মনে হয় তাপস যেন এখনও ওর পাশেই রয়েছে।”
পোস্টের শেষে এক আবেগঘন বার্তা দিয়ে নন্দিনী লেখেন, “বাবা হয়তো আজ আর শারীরিকভাবে তোর পাশে নেই, আমার ডল। কিন্তু যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁর ভালোবাসা ঠিক আগের মতোই তোকে জড়িয়ে রেখেছে। কিছু মানুষ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও তাঁদের ভালোবাসা কখনও ছেড়ে যায় না—এই জ্যাকেটটা সারাজীবন তোকে সেই কথাই মনে করিয়ে দেবে।”