
রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় আলো ঝলমলে মঞ্চে চেনা মেজাজে ধরা দিলেন ‘দাদা’। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত ধরেই পর্দা উঠল বহু প্রতীক্ষিত রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’র। আর প্রথম দিনেই আবেগে ভাসল মঞ্চ। প্রতিযোগী হিসেবে পা রেখেই বাবা তাপস পালের স্মৃতিতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন কন্যা সোহিনী পাল। কথায় কথায় ঝাপসা হয়ে এল চোখ, তবে গলায় স্পষ্ট ছিল আত্মবিশ্বাস, বাবার ভুলত্রুটির কথা লুকোননি, বরং বুক চিতিয়ে জানালেন, অতীত বদলাতে নয়, নিজের পরিচয় গড়তেই এই মঞ্চে তাঁর আগমন।
মঞ্চে সোহিনীকে দেখেই স্বাভাবিকভাবে উঠে আসে তাপস পালের প্রসঙ্গ। বাবার প্রয়াণের পর মুম্বই থেকে পাকাপাকিভাবে কলকাতায় ফিরে এসেছেন সোহিনী। এখন মায়ের সঙ্গেই থাকছেন তিনি। রিয়্যালিটি শো-এর কঠিন লড়াইয়ের ঘরে ঢোকার আগে কিছুটা ভয়ে ভয়েই ছিলেন তিনি। সঞ্চালক সৌরভ তাঁকে মনে করিয়ে দেন, নিজেকে মানসিক দিক থেকে শক্ত না করলে এই বাড়িতে টিকে থাকা কঠিন হবে। উত্তরে বাবার শেখানো মন্ত্র আওড়ে সোহিনী বলেন, “বাবা বলতেন অবস্থা দেখে ব্যবস্থা করে নিতে হয়।”
বাবার রাজনৈতিক জীবন ও বিতর্কের ছায়া যে তাঁর পরিবারকে ছুঁয়ে গিয়েছে, তা অস্বীকার করেননি সোহিনী। স্পষ্ট কথায় তিনি জানান, “বাবা অনেক ভালো কাজ করেছেন, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। কিছু ভুলও করেছেন এবং তার প্রায়শ্চিত্তও করেছেন।” এরপরই সোহিনী যোগ করেন, “আমি তাপস পালের মেয়ে, এটা আমার পরিচয়ের একটা অংশ। কিন্তু আমি এখানে অতীত পাল্টাতে আসিনি, ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে এসেছি। তাপস পালের মেয়ের বাইরেও আমার যে একটা আলাদা অস্তিত্ব আছে, সেটা জানাতে এসেছি। সকলের ঘরের মেয়ে হয়ে উঠতে চাই।”
সোহিনী ছাড়াও এবারের বিগ বসের ঘরে হাজির একঝাঁক তারকা। মোট তিন মাস ধরে বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে টিকে থাকার লড়াই চালাবেন প্রতিযোগীরা।
প্রতিযোগীদের তালিকায় আর কারা রয়েছেন?
অভিনেতা ভরত কল, অনিন্দ্য সেনগুপ্ত ও সায়ক চক্রবর্তী
অভিনেত্রী সৃজলা গুহ, নন্দিনী দত্ত, মনামী ঘোষ
সঙ্গীতশিল্পী দুর্নিবার সাহা
প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস
সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার নিরঞ্জন মণ্ডল (লাফটারসেন)
বিদেশি মডেল-অভিনেত্রী আলেকজান্দ্রা টেলর
জলপাইগুড়ির ব্যবসায়ী তনুশ্রী রায় দাস
সব মিলিয়ে বিনোদন, রাজনীতি আর আবেগের এক জমাটি মিশেল নিয়ে শুরু হয়ে গেল বিগ বস বাংলার নতুন মরশুম।