
সোনু নিগম (Sonu Nigam) মানেই নব্বইয়ের দশকের সেই মিষ্টি নস্টালজিয়া। যাঁর জাদুকরী গলার সুরে আজও মুগ্ধ হয়ে থাকেন হাজার হাজার শ্রোতা। সাধারণ মানুষের মনে একটা বদ্ধমূল ধারণা রয়েছে যে, যাঁদের গলা খুব একটা ভালো নয় বা যাঁরা ঠিকমতো সুর ধরে গাইতে পারেন না, মূলত তাঁরাই গান রেকর্ডিংয়ের সময় অটো-টিউন ব্যবহার করেন। কিন্তু এবার খোদ সুরের রাজা সোনু নিগম এমন এক গোপন সত্যি সামনে আনলেন, যা শুনে অনেকেই বেশ অবাক হয়েছেন। এই জনপ্রিয় গায়ক নিজেই অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তিনি তাঁর কিছু গানে অটো-টিউনের সাহায্য নেন!
সম্প্রতি ‘গেম চেঞ্জার্স’ নামের একটি পডকাস্টে এসে সোনু এই বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “অটো-টিউনের যুগে গানের জগতে অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এটা নিয়ে অনেক সমালোচনা করে ঠিকই, কিন্তু আমি মনে করি যা হয়েছে ভালোই হয়েছে।” আগেকার দিনে অটো-টিউন বলে কিছু ছিল না। তখন গায়কদের শুধুমাত্র রেওয়াজের ওপর ভরসা করে স্টুডিওতে গাইতে হত। সোনুর মতে, তাঁরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে সেই পুরনো দিনে রেওয়াজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন, যার ফলে তাঁদের ভিত অনেক শক্ত হয়েছে।
তাহলে এত ভালো গলা থাকা সত্ত্বেও এখন কেন অটো-টিউন দরকার হয়? গায়কের সোজা এবং সহজ উত্তর হল, এখন গানবাজনার ধরন পুরোপুরি ডিজিটাল হয়ে গিয়েছে। আগে স্টুডিওতে লাইভ মিউজিক বাজত। সেখানে সারেঙ্গি বা স্ট্রিংসের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে গলার সুর একটু এদিক-ওদিক হলেও সহজেই মানিয়ে যেত। কিন্তু এখন সবটাই কম্পিউটারে মাপা, যাকে বলে ৪৪০ হার্জ। গানের সুর যদি একদম নিখুঁত না হয়, তবে তা এই ডিজিটাল মিউজিকের সঙ্গে বেশ বেমানান লাগে। খালি গলায় গাইলে তা অনেক সময় আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে ঠিকমতো বসে না। তাই গানের মান একদম নিখুঁত করতেই তিনি এখন নির্দিষ্ট কিছু গানে অটো-টিউনের সাহায্য নেন।
তবে এর সঙ্গে একটি খুব জরুরি বার্তাও দিয়েছেন তিনি। সোনু পরিষ্কার জানিয়েছেন, যাঁরা একেবারেই গাইতে পারেন না, তাঁদের গলা জোড়াতালি দিয়ে ঠিক করার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা মোটেই উচিত নয়। একজন আসল গায়ক যখন নিজের ৯৯ শতাংশ উজাড় করে দেন, তখন বাকি ১ শতাংশ নিখুঁত করতে অটো-টিউন কাজে লাগে। আজকাল অনেক অভিনেতা নিজেদের শখে অটো-টিউন দিয়ে গান গাইতে ভালোবাসেন, তাতে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু তাঁরা কখনওই আসল গায়কদের জায়গা নিতে পারবেন না।
সোনুকে খুব শিগগিরই রাজকুমার সন্তোষীর নতুন ছবি ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এ শোনা যাবে। সানি দেওল ও প্রীতি জিন্টা অভিনীত এই ছবিতে এ আর রহমানের সুরে এবং জাভেদ আখতারের কথায় ‘তবাসসুম’ নামের একটি দারুণ গান গেয়েছেন তিনি।