
অস্ত্রোপচার চলছে। শরীরে প্রবল যন্ত্রণা। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু তিনি যে সোনু নিগম! সুর যাঁর রক্তে মিশে আছে, তিনি কি আর চুপ থাকতে পারেন? শারীরিক কষ্টেও তিনি ভুলে থাকলেন সুরের জাদুতে। সোজা অপারেশন টেবিলে শুয়েই গেয়ে উঠলেন মহম্মদ রফির বিখ্যাত গান। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় তাঁর এই ভিডিয়োটি ভাইরাল হয়েছে। যা দেখে রীতিমতো অবাক তাঁর অনুরাগীরা।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে, ডাক্তারদের ঘেরাটোপে সোনু। চলছে চিকিৎসা। এমন গুরুগম্ভীর পরিবেশের মধ্যেও তিনি গাইলেন ১৯৪৯ সালের ‘দুলারি’ ছবির সেই আইকনিক গান, ‘সুহানি রাত ঢল চুকি’। গায়কের এই কাণ্ড দেখে হতবাক নেটিজেনরাও। ভিডিয়োটি শেয়ার করে সোনু নিজেই লিখেছেন, “প্রিয় ডক্টর নীলেশ সাতভাই ও তাঁর টিমের জন্য আমার এই ছোট্ট নিবেদন। যন্ত্রণার মধ্যেও গান গাওয়ার আনন্দটাই আলাদা!” সত্যিই, সঙ্গীতের সঙ্গে এমন আত্মিক টান খুব কম শিল্পীরই দেখা যায়।
ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়। প্রিয় শিল্পীকে এভাবে হাসপাতালের বিছানায় দেখে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন তাঁর অগণিত ভক্ত। কমেন্ট বক্সে উপচে পড়ছে দ্রুত আরোগ্য কামনার বার্তা। কেউ লিখছেন, “খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন সোনু স্যার”, আবার কারও কথায়, “আপনার দ্রুত সুস্থতার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি।” অনেকেই আবার তাঁর এই ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। যন্ত্রণার মধ্যেও এভাবে হাসিমুখে গান গাওয়া যে কতটা অনুপ্রেরণামূলক, সেটাই বলছেন সকলে। কোনও শারীরিক কষ্টই যে তাঁর মানসিক জোরকে হারাতে পারেনি, তা এই ভিডিয়ো থেকেই স্পষ্ট।
কয়েক দশক ধরে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে রীতিমতো রাজত্ব করছেন সোনু নিগম। ‘কাল হো না হো’, ‘আভি মুঝ মে কহিঁ’ থেকে শুরু করে ‘সুরজ হুয়া মদ্ধম’ বা ‘ম্যায় অগর কঁহু’— তাঁর গাওয়া প্রতিটি গানই যেন আজও শ্রোতাদের মনের মণিকোঠায় উজ্জ্বল। তবে কিংবদন্তি শিল্পী মহম্মদ রফির প্রতি তাঁর মুগ্ধতার কথা কখনও কারও অজানা নয়। এর আগেও বহুবার তিনি রফির গান গেয়ে শ্রোতাদের মন জয় করেছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। জীবনের এক কঠিন মুহূর্তকেও তিনি যেভাবে সুরের ছোঁয়ায় অন্য মাত্রা দিলেন, তা দেখে ভক্তদের মন ভরে গিয়েছে। সঙ্গীত যে কেবল তাঁর পেশা নয়, বরং বাঁচার রসদ, তা যেন আরও একবার প্রমাণ করলেন বলিউডের এই প্রখ্যাত গায়ক।
কিন্তু কী এমন হয়েছে সোনুর? কেনই বা তাঁকে এই তীব্র যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে? গায়ক নিজেই জানিয়েছেন, তিনি ‘পিনচড নার্ভ’ বা স্নায়ুর প্রবল চাপে ভুগছেন। এই সমস্যার উৎস ও গভীরতা বুঝতে গত এক সপ্তাহ ধরে তাঁকে এমআরআই (MRI) থেকে শুরু করে সিটি (CT) স্ক্যান-সহ একাধিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয়েছে। চলতে থাকা ফিজিওথেরাপি সেশনগুলিও অত্যন্ত কষ্টদায়ক। যন্ত্রণার উপশম ঘটাতে বর্তমানে তাঁকে পুরোপুরি পেইনকিলারের (ব্যথানাশক ওষুধ) ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আর চিকিৎসকদের দেওয়া সেই কড়া পাওয়ারের পেশি শিথিল করার ওষুধের জেরে তাঁর গলাও কিছুটা ভারী হয়ে গিয়েছে।
তবে এই প্রবল শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও তাঁকে স্টেজ থেকে দূরে রাখতে পারেনি। কিছুদিন আগে মুম্বইয়ে একটি লাইভ পারফর্ম্যান্সের আগে সমাজমাধ্যমে তিনি তাঁর এই পরিস্থিতির কথা জানান। এক পেশাদার গায়কের কাছে শোয়ের আগে গলায় সামান্য পরিবর্তনও বেশ উদ্বেগের। কিন্তু দর্শকদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তিনি একটুও সরেননি। স্পষ্ট জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন পর মঞ্চে ফিরছেন এবং কনসার্ট বাতিলের কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। সব চ্যালেঞ্জ পার করে দর্শকদের সামনে পারফর্ম করতে তিনি বদ্ধপরিকর। অসুস্থতা সত্ত্বেও কাজের প্রতি এই অদম্য নিষ্ঠা আর একাগ্রতা দেখেই প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা।