
নিট প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত আয়োজিত এক প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হয়েছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। আন্দোলনের সেই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই হাতে একটি পোস্টার ধরে ছবি তোলেন তিনি। আর সেই ছবি ঘিরে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগ, হাতে ধরা এই পোস্টারে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি কুরুচিকর ও আপত্তিকর ছবি ছিল।
ঘটনার জেরে আনন্দপুর থানায় একটি নির্দিষ্ট মামলা রুজু হয়েছে। আনন্দপুর থানার কেস নম্বর ৩০২-এ অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৩৫২ (শান্তিভঙ্গের উস্কানি), ৩৫৩(২) (উস্কানিমূলক আচরণে প্রকাশ্যে সমর্থন) এবং ৩৫৬(৩) (মানহানি) ধারায় এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ নিজে আনন্দপুর থানায় গিয়ে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া বিধাননগর সাইবার ক্রাইম-সহ একাধিক থানাতেও শ্রীলেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে।
শ্রীলেখার এই কার্যকলাপের তীব্র বিরোধিতা করে বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ স্পষ্ট জানান, দলীয় নেত্রী হিসেবে নয়, দেশের একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেই দেশের প্রধানমন্ত্রীর এমন অশালীন ছবি দেখে তিনি চরম ক্ষুব্ধ। অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়ে কেয়া ঘোষ বলেন যে, এমন কুরুচিকর ছবি প্রচার ও প্রদর্শন করার জন্য শ্রীলেখার বিরুদ্ধে আইনানুসারে যথাযোগ্য পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। এই ধরনের কাজের জন্য কড়া শাস্তি পাওয়া উচিত। তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার না করলে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
অন্যদিকে, বিতর্ক বাড়তেই সোশাল মিডিয়ায় মুখ খুলে নিজের সাফাই দিয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র। পাওয়ারের চশমা না থাকায় তিনি যে পোস্টারের ছবি বুঝতে পারেননি, তা স্পষ্ট করে অভিনেত্রী বলেন, “মিছিলে দৌড়াদৌড়ি হচ্ছিল, আমি পাওয়ারের চশমা নিয়ে যেতে ভুলে গিয়েছিলাম। শুধু রোদচশমা (সানগ্লাস) নিয়ে গিয়েছিলাম। চারপাশে লাঠিচার্জ হচ্ছিল, খুব উত্তেজনার পরিস্থিতি। সেই সময় না দেখেই পোস্টারটি হাতে নিয়ে ছবি তুলেছিলাম, ঘুরিয়ে দেখার সুযোগও পাইনি।”
বিজেপির গ্রেফতারির দাবির জবাবে ভিডিয়ো বার্তায় শ্রীলেখা আরও যোগ করেন, “ছবিটা দেখলেই বুঝতে পারবেন বিষয়টাই বা কী ছিল। আমি যতই বিজেপি-বিরোধী হই না কেন, আমাকে দেশদ্রোহী বলাটা যেমন হাস্যকর, তেমনই আমি ইচ্ছা করে ওই ইঙ্গিত করেছি ভাবাটাও হাস্যকর। আপনারা মেয়েদের জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন, কোনও মহিলা কোনও পুরুষের দিকে তাকালে তাঁর নিম্নাঙ্গের দিকে তাকান কিনা। আপনাদের যদি মনে হয় আমাকে গ্রেফতার করবেন, করুন। যদি মনে হয় ফাঁসিতে চড়াবেন, তাও করুন। তবে আমি নিশ্চিত, আবার একটা আন্দোলন হবে।”