
বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা আর মাধবন (R Madhavan)-কে চেনেন না এমন মানুষ কমই আছেন। তবে তাঁর ছেলে বেদান্ত কিন্তু বাবার মতো অভিনয়ের জগতে আসেননি। তিনি একজন পেশাদার সাঁতারু। দেশের হয়ে একাধিক মেডেল জিতেছেন, এখন লক্ষ্য অলিম্পিক। কোটিপতি তারকার ছেলে হওয়া সত্ত্বেও বেদান্ত কিন্তু একেবারে মাটির মানুষ। আর ছেলেকে এমনভাবে গড়ে তোলার পেছনে রয়েছে মাধবনের এক দারুণ ঘরোয়া টোটকা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানান, ছেলেকে জীবনের আসল রূপ বোঝাতে তিনি এক অভিনব উপায় বেছে নিয়েছিলেন।
মাধবন জানান, তাঁর নিজের ছোটবেলা কেটেছে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে। তবে স্টার হওয়ার পর আজ তাঁর কাছে প্রচুর টাকা-পয়সা রয়েছে। ছেলে বেদান্ত যা চেয়েছেন, তিনি সহজেই তা কিনে দিতে পেরেছেন। কিন্তু মাধবনের ভয় ছিল, সহজে সব পেয়ে গেলে ছেলে হয়তো টাকার গুরুত্ব বুঝবে না। তাই ছোট থেকেই ছেলেকে ‘কৃতজ্ঞতা’ শেখাতে চেয়েছিলেন তিনি।
বেদান্তকে টাকার মূল্য বোঝাতে মাধবন কী করতেন? এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানান, ছেলেকে কোনও দামি উপহার দেওয়ার পর তিনি বাড়ির কাজের মানুষদের আয়ের সঙ্গে সেটার তুলনা করতেন। মাধবন বলেন, “আমি বেদান্তকে আমাদের রাঁধুনির বেতনের কথা বলতাম। ওকে বলতাম, তোমাকে যে দামি খেলনাটা দেওয়া হয়েছে, সেটার যা দাম, এই মানুষটাকে রান্নাঘরে দিনের পর দিন খেটে পুরো এক বছর কাজ করতে হবে তবেই তিনি এই টাকাটা পাবেন। এই কথাটা বেদান্তর মাথায় চট করে ঢুকে গিয়েছিল।” এর পর থেকেই বেদান্ত বুঝতে শুরু করেন যে সব জিনিস কত সহজে পাওয়া যায় না।
শুধু টাকার হিসাব বোঝানোই নয়, অভিনেতা খেয়াল রাখতেন ছেলে যেন সব মানুষকে সমান সম্মান দেয়। মাধবনের কড়া নিয়ম ছিল, বাড়ির বা লিফটের দারোয়ান, গাড়ি চালক কিংবা পরিচারিকাদের সঙ্গে সবসময় ভালো ব্যবহার করতে হবে। তাঁদের রাস্তাঘাটে দেখলে যেন এড়িয়ে না গিয়ে সম্মান দিয়ে ‘দিদি’ বা ‘দাদা’ বলে ডাকে বেদান্ত।
মাধবনের মতে, এটি কেবল মৌখিক ভদ্রতা নয়, এটি আসলে চারপাশের সমাজকে চেনার একটা বড় শিক্ষা। অভিনেতা জানান, যখন কোনও সিকিউরিটি গার্ড এসে বলেন, “আপনার ছেলে খুব ভালো, দেখা হলেই নমস্তে বলে”- তখন বাবা হিসেবে বুকটা গর্বে ভরে ওঠে। খেলাধুলোয় সাফল্যের পাশাপাশি ছেলে যেন একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠে, সেটাই ছিল এই তারকা বাবার আসল উদ্দেশ্য।