
থালাপতি বিজয় (Thalapathy Vijay) এবং তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গম (Sangeetha Sornalingam) এর সংসার কি সত্যিই ভাঙছে, নাকি আবার এক হচ্ছেন তাঁরা? গত কয়েক মাস ধরে রুপোলি পর্দার এই সুপারস্টারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চার অন্ত নেই। টলিউড থেকে বলিউড, সব মহলের নজর ছিল তাঁদের টালমাটাল সম্পর্কের দিকে। আইনি লড়াই নয়, বরং সমস্ত মান-অভিমান ভুলে আবার এক ছাদের তলায় আসতে চলেছেন তাঁরা?
চলতি বছরের শুরুতেই যখন বিজয় ও সঙ্গীতার ডিভোর্সের পিটিশন দাখিল করার খবর সামনে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছিলেন ভক্তরা। বিশেষ করে বিজয়ের রাজনৈতিক আঙিনায় পা রাখা এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও স্ত্রী সঙ্গীতাকে পাশে দেখা যায়নি। এমনকি বিজয়ের রাজনৈতিক প্রচার বা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও তাঁর অনুপস্থিতি বিচ্ছেদের জল্পনায় ঘৃতাহুতি দিয়েছিল। বেশ কিছু সময় ধরে সঙ্গীতা তাঁর সন্তানদের নিয়ে লন্ডনে বসবাস করছেন। তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী আইনি লড়াইয়ের রাস্তায় না হেঁটে আদালতের বাইরেই নাকি নিজেদের দূরত্ব কমিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এই তারকা দম্পতি।
বিজয় এবং সঙ্গীতার দাম্পত্য কলহের খবর যখনই প্রকাশ্যে এসেছে, তখনই বিনোদন জগতে আর একটি নাম নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে, তিনি হলেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন (Trisha Krishnan)। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সঙ্গীতা যখন আদালতের দ্বারস্থ হন, তখন তাঁর আবেদনে বিজয়ের বিরুদ্ধে একটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও সেখানে সরাসরি কারও নাম নেওয়া হয়নি, তবুও সোশাল মিডিয়া এবং অনুরাগীদের একাংশ এই ঘটনার সঙ্গে তৃষার নাম জড়িয়ে নানা জল্পনা তৈরি করতে শুরু করেন। রুপোলি পর্দার এই সুপারহিট জুটির অফ-স্ক্রিন রসায়ন নিয়ে আগে থেকেই কিছু গুঞ্জন ছিল, যা এই বিচ্ছেদ মামলার পর আরও জোরালো হয়ে ওঠে। এই জল্পনায় নতুন করে ঘি পড়ে যখন চেন্নাইয়ের একটি হাই-প্রোফাইল বিয়ের অনুষ্ঠানে বিজয় এবং তৃষাকে একসঙ্গে দেখা যায়। দু’জনে পাশাপাশি হেঁটে মঞ্চে ওঠেন এবং নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান।
বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্টের সূত্র অনুযায়ী, বিজয়-সঙ্গীতার দুরত্ব ঘোচানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছেন বিজয়ের মা শোভা চন্দ্রশেখর। তিনিই নাকি দু’পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন এবং ভাঙা সংসার জোড়া লাগানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এই বিষয়ে বিজয় বা সঙ্গীতা, কারও তরফ থেকেই এখনও কোনও অফিশিয়াল প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে আদালতের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগে যেখানে দু’পক্ষের মধ্যে একটা বিরোধের দেওয়াল ছিল, এখন সেখানে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। ১৯৯৯ সালের অগস্টে সাতপাকে বাঁধা পড়া এই দম্পতির দুই সন্তান, জেসন সঞ্জয় এবং দিব্যা সাশাও এখন বাবা-মায়ের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। শেষ পর্যন্ত তাঁরা বিচ্ছেদের চূড়ান্ত পথে হাঁটবেন নাকি নতুন করে পথ চলা শুরু করবেন, তা হয়তো আর কিছুদিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে আপাতত এই পুনর্মিলনের খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কোটি কোটি অনুরাগী।