
মিঠাই ধারাবাহিক খ্যাত অভিনেত্রী তন্বী লাহা রায় (Tonni Laha Roy)-এর জন্য এই বছরের জন্মদিনের মাসটা যে এতটা খারাপ কাটবে, তা তিনি নিজেও কখনও ভাবতে পারেননি। সাধারণত এই সময়ে আনন্দ উদযাপন কিংবা দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু এবার আনন্দ পরিণত হয়েছে বিষাদে। ঘুরতে যাওয়ার টিকিট বাতিল করতে তো হয়েছেই, উল্টে দিনের পর দিন কাটছে হাসপাতালে, রাতের পর রাত ঘুমহীনতা, বুকচাপা উদ্বেগ, একের পর এক ব্লাড টেস্ট, এমআরআই আর ইনজেকশনের মাঝেই কেটে যাচ্ছে দিনগুলো।
সোশাল মিডিয়ায় জীবনের এই কঠিন সত্যটা ভাগ করে নিয়ে অভিনেত্রী লিখেছেন, “এই বছরের বার্থডে মান্থটা যে এই ভাবে কাটবে, কখনও ভাবিনি। বার্থডে সেলিব্রেট দূরের কথা, ঘুরতে যাওয়ার টিকিটও ক্যানসেল করতে হল।” একের পর এক পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে জানা যায়, তাঁর জরায়ুতে বাসা বেঁধেছে মোট ৯টি ফাইব্রয়েড টিউমার! এর মধ্যে দু’টি টিউমারের আকার ছিল প্রায় সাড়ে ৯ সেন্টিমিটার, যা প্রায় “দুই ৬ মাসের বেবি-সাইজ়”-এর সমান। বাকিগুলো ছিল মাঝারি আকারের। টিউমারের আকার ও জায়গা দেখে সমস্ত চিকিৎসক একটাই কথা বলেছিলেন, অস্ত্রোপচার ছাড়া আর দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই।
প্রথমবার জীবনের এত বড় একটা অপারেশনের মুখোমুখি হওয়ার খবরে স্বাভাবিকভাবেই বেশ ভয় পান তন্বী। প্রায় এক মাস ধরে একাধিক ডাক্তারের দরজায় চক্কর কেটেছেন, গাদা গাদা রিপোর্ট আর এমআরআই করিয়েছেন। কিন্তু মনের ভেতর খালি একটাই খটকা তাড়া করে বেড়াচ্ছিল, “কার হাতে নিজের প্রথম অপারেশনটা তুলে দেব? কাকে ভরসা করব?” অবশেষে মুশকিল আসান হয়ে এলেন ড. নীলভ ভাদুড়ী। তন্বী জানান, সেই ডাক্তার অত্যন্ত ধৈর্য ধরে তাঁর সমস্ত ফাইলপত্র দেখেন, বুঝিয়ে কথা বলেন আর মাঝেমধ্যে হালকা ইয়ার্কি-ঠাট্টা করে তাঁর মনের ভয়টাও অনেকটা হালকা করে দেন।
ডাক্তারের ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেই তিনি অপারেশনের টেবিলে যান। টানা সাড়ে চার ঘণ্টার এক লম্বা ও জটিল অস্ত্রোপচারের পর অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে তাঁর শরীর থেকে ৯টি ফাইব্রয়েডই বের করে আনা হয়। সফল অপারেশনের জন্য ডাক্তারের প্রতি অন্তরের চরম কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
এরই মাঝে একটি ওয়েব সিরিজে লিড রোলে অভিনয়ের কথা চলছিল তাঁর। কিন্তু শুটিং শুরু হওয়ার আগেই এই রোগের কবলে পড়ায় তন্বী ভেবেছিলেন, “আমাকে এবার রিপ্লেস করে দেবে।” কিন্তু সেটি একেবারেই হয়নি! পরিচালক অরিন্দম শীল ও প্রযোজনা সংস্থা তাঁকে বাতিল করা দূরে থাক, শক্ত হাতে পাশে দাঁড়িয়েছে। ডাক্তার আর টেস্টের চক্করের মাঝেই যতটুকু সম্ভব শুটিং সেরেছিলেন তিনি। পুরোটা শেষ হওয়ার আগেই অস্ত্রোপচার করাতে হলেও বাকি একদিনের শুটিংয়ের জন্য তাঁকে পর্যাপ্ত সময় দিয়েছেন প্রযোজক-পরিচালক। সহকর্মীদের এই ভরসা তিনি জীবনে কখনও ভুলবেন না বলে জানিয়েছেন।
বিপদের এই দিনে নিজের পরিবারের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছেন তন্বী। তন্বীর কথায়, “তাদের ভালবাসা আর ঠাকুরের আশীর্বাদ ছাড়া হয়তো এই জার্নিটা এত সাহস নিয়ে পার করতে পারতাম না।”
আপাতত সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ার (recovery phase) মধ্যে রয়েছেন তন্বী। ২৭ জুলাই তাঁর জন্মদিনের ঠিক মুখেই এই ধকল সামলে উঠে এখন একটাই লক্ষ্য, খুব দ্রুত চেনা ফ্লোরে ফেরা। তন্বীর সোজা কথা, “শুটিং আর ক্যামেরার সামনে থাকা হল আমার ভালো থাকার ওষুধ।” ভক্তিতে চোখ বুজে তাই পোস্টের শেষে লিখেছেন, “জয় মা তারা, হর হর মহাদেব।”