
গোবিন্দা (Govinda) এবং চাঙ্কি পাণ্ডের মতো তারকাদের যিনি বলিউডের রুপোলি পর্দায় প্রথম ব্রেক দিয়েছিলেন, রুপোলি দুনিয়ার সেই চাণক্য আর নেই। চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল বলিউডের এক বর্ণময় অধ্যায়। প্রয়াত হলেন বলিউডের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC)-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান পহেলাজ নিহালানি। ৭৬ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণ হল। গত কয়েক দিন ধরেই তিনি বেশ অসুস্থ ছিলেন। মুম্বইয়ের নানাবতী হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়িতেও ফিরেছিলেন তিনি। তবে শেষরক্ষা হল না, নিজের বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান প্রযোজক। তাঁর ঘনিষ্ঠ পারিবারিক বন্ধু শশী রঞ্জন এই দুঃখজনক খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর প্রয়াণে স্বাভাবিকভাবেই গোটা বি-টাউনে শোকের ছায়া ছড়িয়ে গিয়েছে।
বলিউডের ইতিহাসে পহেলাজ নিহালানির অবদান কখনও ভোলার নয়। ১৯৮২ সালে ‘হথকড়ি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে তাঁর কেরিয়ার শুরু হয়েছিল। এরপর তিনি একের পর এক সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন ভারতীয় দর্শকদের। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ‘গুনাহোঁ কা ফয়সলা’, ‘পাপ কি দুনিয়া’, ‘মিত্তি অউর সোনা’ এবং ‘শোলা অউর শবনম’-এর মতো জনপ্রিয় ছবি। তবে ১৯৯০-এর দশকে তাঁর প্রযোজিত ‘আঁখে’ সিনেমাটি বক্স অফিসে তুমুল ঝড় তুলেছিল। এটি সেই সময়ের অন্যতম সবচেয়ে বড় ব্লকবাস্টার ছবি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল।
শুধু প্রযোজনা নয়, ২০১২ সালে ‘অবতার’ সিনেমাটি পরিচালনার মাধ্যমে তিনি পরিচালকের আসনেও বসেছিলেন। এছাড়া ২০০৮ সালের ‘হাল্লা বোল’ সিনেমাটিতে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। চলচ্চিত্র জগতের অবদানের পাশাপাশি তিনি ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ পিকচার্স অ্যান্ড টিভি প্রোগ্রাম প্রডিউসার্স’-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে দীর্ঘ ২৯ বছর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন এবং ২০০৯ সালে সেই পদ থেকে ইস্তফা দেন। স্পষ্টবাদী হিসাবেই পরিচিত ছিলেন পহেলাজ নিহালানি । ২০১৫ সালে তিনি সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। আর চেয়ারে বসেই তিনি সিনেমার কাঁটছাঁট নিয়ে অত্যন্ত কড়া নিয়মকানুন চালু করেছিলেন।
২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদে সেন্সর বোর্ডের নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চলচ্চিত্র জগতে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ছবির দৃশ্যে কাঁচি চালানো থেকে শুরু করে সংলাপ বাদ দেওয়া, নানা কারণে তিনি সবসময় সংবাদ শিরোনামে থাকতেন। ফলস্বরূপ, সিবিএফসি-র ইতিহাসের অন্যতম সবচেয়ে চর্চিত এবং বিতর্কিত প্রধান হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে অবশ্য তাঁকে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের মুখে নরেন্দ্র মোদীর সমর্থনে ‘হর হর মোদী, ঘর ঘর মোদী’ প্রচারমূলক গানটি তৈরি করেও রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। সিনেমার পর্দা থেকে রাজনীতির ময়দান, তাঁর উপস্থিতি কোনও ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। রুপোলি দুনিয়ার এই চাণক্যের প্রস্থান বিনোদন জগতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করে দিয়ে গেল।