
নিজের জীবনের গল্প নিয়ে কি এবার ছবি বানাতে চলেছেন বিক্রম ভাট (Vikram Bhatt)? এমন প্রশ্ন জাগতেই পারে তাঁর সাম্প্রতিক বিস্ফোরক মন্তব্যে। উদয়পুরের জেলে কাটানো ৭০ দিনের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন পরিচালক। জেলের ভেতরে সঠিক চিকিৎসার অভাবে নাকি প্রায় মরতেই বসেছিলেন তিনি! শীতের রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডা, জন্ডিস আর তার সঙ্গে শরীরের অসহ্য যন্ত্রণা, সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে এই অন্ধকারের মধ্যেও এক টুকরো আলোর সন্ধান পেয়েছেন তিনি। জেলের কয়েদিরাই নাকি তাঁর পরম বন্ধু ও রক্ষাকর্তা হয়ে উঠেছিলেন, আদর করে ডাকতেন ‘ভীষ্ম পিতামহ’!
ইন্দিরা আইভিএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় মুর্দিয়ার প্রয়াত স্ত্রী ইন্দিরা মুর্দিয়ার বায়োপিক নিয়ে আর্থিক বিবাদের জেরে গত বছরের ডিসেম্বরে গ্রেফতার হন বিক্রম ও তাঁর স্ত্রী শ্বেতাম্বরী ভাট। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামিন মিললেও জেলের সেই ৭০ দিন কীভাবে কেটে গিয়েছে, তা তিনি কখনও ভুলবেন না। এক সাক্ষাৎকারে বিক্রম ভাট জানিয়েছেন, তিনি ‘অ্যাক্সিয়াল স্পন্ডিলার্থ্রাইটিস’ নামক একটি অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত, যা হাড় ও পেশিতে তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করে। তার উপর ডিসেম্বর-জানুয়ারির কনকনে ঠান্ডায় তাঁকে মেঝেতে মাদুর পেতে শুতে হত। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন তিনি জন্ডিসে আক্রান্ত হন। বারবার অনুরোধ করলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী না থাকার অজুহাতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। তীব্র জ্বরে যখন তিনি কাঁপতেন, তখন জেলের কয়েদিরাই নিজেদের কম্বল দিয়ে তাঁকে আগলে রাখতেন। বিক্রমের কথায়, “আমি ওখানে প্রায় মারাই যাচ্ছিলাম। শেষ পর্যন্ত তেল-মশলা ছাড়া ছোলা, ফল আর জল খেয়ে, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে নিজে নিজেই সুস্থ হয়েছি।”
তবে এই চরম কষ্টের মাঝেও এক অনন্য মানবিকতার রূপ দেখেছেন পরিচালক। জেলের ব্যারাকে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ জন কয়েদির সঙ্গে থাকতে হত তাঁকে। সেখানে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সবার প্রিয় গল্পদাদু। প্রতি রাতে কয়েদিরা তাঁর চারপাশে গোল হয়ে বসত ভূতের গল্প শোনার জন্য! বিক্রম বলেন, “ওরা আমাকে কিচ্ছু করতে দিত না। খাবার এনে দেওয়া থেকে শুরু করে জামাকাপড়ের খেয়াল রাখা, সব ওরাই করত। দু’জন কয়েদি আমার দু’পাশে ঘুমাত যাতে আমার কোনও ক্ষতি না হয়।” এই অভিজ্ঞতা বিক্রমকে ভারতের সেই সাধারণ দর্শকদের মন বুঝতে সাহায্য করেছে, যাঁরা সিনেমা হলে গিয়ে তাঁর সিনেমা দেখেন।
জেল থেকে মুক্তির পর বলিউড থেকে কেমন সাড়া পেলেন? বিক্রম জানান, মিঠুন চক্রবর্তী এবং সঞ্জয় দত্ত ফোন করে তাঁর খোঁজ নিয়েছেন। এমনকি শৈশবের বন্ধু অজয় দেবগনও পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে অক্ষয় কুমার কি ফোন করেছিলেন? এই প্রশ্নে বিক্রমের সপাট ও কিছুটা রসাত্মক জবাব হল, “উনি কেন ফোন করবেন? উনি তো আমার বন্ধু নন!”
সমস্ত আইনি বিতর্ককে উড়িয়ে দিয়ে বিক্রম এখন আদালতের ওপর ভরসা রাখছেন। তবে জীবন তো আর থমকে থাকে না। আগামী ১২ জুন মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর নতুন হরর থ্রিলার সিনেমা ‘হান্টেড থ্রিডি: ইকোস অফ দ্য পাস্ট’ (Haunted 2)। মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন মহাক্ষয় (মিমো) চক্রবর্তী এবং চেতনা পাণ্ডে। জেলের ভেতরের বাস্তবের ভুতুড়ে অভিজ্ঞতা কাটিয়ে এবার রূপোলি পর্দায় ভয়ের ম্যাজিক দেখাতে কতটা সফল হন বিক্রম, সেটাই এখন দেখার।