
প্রয়াত হলেন পরিচালক অনীক দত্ত। তাঁর মৃত্যু ঘিরে রহস্য রয়েছে। প্রশাসন তদন্ত করছেন। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায়, পরিচালক ডিপ্রেশনে ছিলেন কিনা, তা নিয়ে চর্চা হচ্ছে। এই বিষয়ে কী মনে হয়? অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত বললেন, ”যে পরিচালক কাজের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হবে, তার তোয়াক্কা না করে শাসক বিরোধী কথা বলতে পারেন, তার কি ডিপ্রেশন হতে পারে? এই কথাটা আলোচিত হচ্ছে। চারটে বিজ্ঞাপনে মানুষটার সঙ্গে কাজ করার পর ‘ভবিষ্যতের ভূত’ মুক্তির সময় অনীকদার ছবির জন্য আমরা আন্দোলন করেছি। ছবিটা মুক্তি পেল। তারপর দর্শক টিকিট চাইতে গিয়ে দেখছেন, ছবি সিনেমা হল থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। অনীকদা বলতেন, ‘লড়াই করব’। এ যে কী সাংঘাতিক লড়াই, সেটা তো আমরা কিছুদিন আগে ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এর মুক্তি আটকে যাওয়ার সময় দেখলাম। অনীকদা আদালতে লড়েন। রাজ্য সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয় তাদের ভুলের জন্য। সেই আন্দোলেন আমাদের সঙ্গে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেনের মতো মানুষরা ছিলেন। এই লড়াইটা যখন অনীকদা লড়ছেন, একই সময় তাঁর বাড়িতে তাঁকে দেখেছি চোখে জল নিয়ে বসে থাকতে। বাড়িতে কথা বলতে গিয়ে, ভেঙে যাওয়া অনীকদাকে দেখেছি। বাইরে যে সাহসী মানুষটাকে দেখছি, তার ডিপ্রেশন হতে পারে না, এটা যাঁরা ভাবছেন, তাঁরা ভুল করছেন। অনীকদার পালমোনারি ডিসঅর্ডার ছিল। ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর পর যখন হাসপাতালে ভর্তি হলেন, তখনও হাসপাতালে দিয়ে দেখেছি, একদম শিশুসুলভ। সেই সময়ে চোখে জল দেখেছি। একদম বাচ্চাদের যেভাবে বোঝাতে হয়, সেভাবে বুঝিয়েছি যে এখনই বাড়ি যাওয়া চলবে না, হাসপাতালে থাকতে হবে। বাড়ি ফেরার পর অনীকদার ভয়ঙ্কর প্যানিক অ্যাটাক হতো।
দেবলীনা যোগ করেন, ”আমার ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন হয়েছে, সেটা বরাবর বলেছি। উনি জানতেন বলে, আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, ওঁর মানসিক অস্থিরতার কথা। সেটা শুনে আমি বলি, সাইকোলজিস্টের কাছে যেতে। তার আগেও উনি একজন সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যাচ্ছিলেন। তবে সেই অভিজ্ঞতাটা তত ভালো হয়নি। তারপর আমার পরিচিত সাইকোলজিস্টের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে দিই। এটা বছর দেড়েক আগের কথা। দ্বিতীয় অ্য়াপয়েন্টমেন্টটা উনি মিস করেন। যেতে ভুল যান। আবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট করি। এবং মনে করিয়ে দিয়েছিলাম। উনি থেরাপি করে ভালো ছিলেন। কিন্তু শেষ তিন-চার মাস আর যাননি।”
অদ্ভুত ব্যাপার হলো, উনি একটা পোষ্য রাখতে চেয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘এখন আমি একটা পোষ্যকে রাখতে পারলে ভালো হয়। সে যত বছর বাঁচবে, আমিও তত বছরই বাঁচব মোটামুটি।’ তবে পোষ্যকে কীভাবে যত্ন করবেন, সেই চিন্তায় উনি পোষ্য রাখেননি। অনীকদা যেরকম হিসাব করেছিলেন, মোটামুটি সেই সময়েই চলে গেলেন। এরই সঙ্গে বলি, টুটুলদি (অনীক দত্তর স্ত্রী সন্ধি দত্ত) অনীকদা এবং প্রযোজনা সংস্থা দু’টোকেই সন্তানের মতো আগলে রাখতেন, যত্ন করতেন। অনেকে বলছেন, টুটুলদি দরজা খোলেননি এবং অনীকদা তারপরই ছাদে উঠে যান, কিন্তু এটা কি টুটুলদি জনসমক্ষে বলেছেন? তা হলে এই তথ্য এলো কোথা থেকে? পুলিশ তদন্ত করে কী জানায়, তার জন্য অপেক্ষা করুন। অনীকদার এই মৃত্যুর ঘটনা থেকে একটাই জিনিস বোঝা দরকার, যে মানুষটা কাজের দুনিয়ায় ভীষণ আত্মবিশ্বাসী, তারও ডিপ্রেশন হতে পারে। ডিপ্রেশন সকলের হতে পারে। কাউকে বাইরে থেকে দেখে বা সমাজ মাধ্যমে তাঁর আপডেট দেখে ধরে নেওয়া উচিত নয়, তিনি ভালো আছেন। আমাদের সকলকে কাছের মানুষের খোঁজ নিতে হবে। কোথাও সেই খোঁজটা নিইনি বলে, আমরাই অনীকদাকে আগলে রাখতে ব্যর্থ হলাম।”