‘দেবলীনা আমাকে চড় মেরেছে…’, প্রথমবার মুখ খুললেন পাইলট প্রবাহ নন্দী

আমাদের বিয়েতে কোনও সমস্যা ছিল না। ভিডিয়ো দেখেই সেটা আপনারা বুঝেছেন। প্রধান সমস্যা ছিল ওঁর মায়ের সব কিছুতে ঢুকে পড়া। বিয়ের আগেও খুব কম জায়গায় আমি আর দেবলীনা একসঙ্গে যেতে পেরেছি। অধিকাংশ জায়গায় ওঁর মা সঙ্গে যেতেন। আমাদেরকে স্পেস দেওয়া হতো না। আমি এক-দু' বার এটা নিয়ে বলেছি। এটাও বলছি, মা-মেয়ের মধ্যে বহু সময়ে ঝামেলা হতো।

দেবলীনা আমাকে চড় মেরেছে..., প্রথমবার মুখ খুললেন পাইলট প্রবাহ নন্দী

|

Jun 13, 2026 | 11:26 AM

এই বছরের গোড়ার ঘটনা। বছরের প্রথম সপ্তাহে গায়িকা দেবলীনা নন্দী এক রাতে জীবন শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। গানের শো করে ফেরার পথে ঘুমের ওষুধ খান। এরপর তাঁর বর প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে নানা সমস্যার কথা উঠে আসে দেবলীনার সঙ্গে সাক্ষাত্‍কারে। প্রবাহ পেশায় পাইলট। এদিকে দেবলীনা-প্রবাহর বৈবাহিক জীবনের প্রচুর ভিডিয়ো দেখা যেত সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই ঘটনার পর মুখ খুলেছেন দেবলীনা। বলেছেন তাঁর সমস্যার কথা। তবে এত দিন একদম চুপ করে ছিলেন প্রবাহ। বারংবার মিডিয়ার ফোন এড়িয়ে গিয়েছেন। ছ’ মাস পর প্রথমবার মিডিয়ার সঙ্গে কথা বললেন প্রবাহ…

দেবলীনার সঙ্গে বিয়েতে কী সমস্যা হয়েছিল?

প্রবাহ: আমাদের বিয়েতে কোনও সমস্যা ছিল না। ভিডিয়ো দেখেই সেটা আপনারা বুঝেছেন। প্রধান সমস্যা ছিল ওঁর মায়ের সব কিছুতে ঢুকে পড়া। বিয়ের আগেও খুব কম জায়গায় আমি আর দেবলীনা একসঙ্গে যেতে পেরেছি। অধিকাংশ জায়গায় ওঁর মা সঙ্গে যেতেন। আমাদেরকে স্পেস দেওয়া হতো না। আমি এক-দু’ বার এটা নিয়ে বলেছি। এটাও বলছি, মা-মেয়ের মধ্যে বহু সময়ে ঝামেলা হতো। এটা নিয়েও বলেছিলাম, যে এই ঝগড়াগুলো শেষ করে বাড়িতে এসো। দেবলীনার মায়ের সব কিছুতে জুড়ে যাওয়ার কারণে অনেক সময়ে নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট হতো। আমি যেরকম দেবলীনাকে বলেছিলাম, কিছু ক্ষেত্রে একা সিদ্ধান্ত নিতে। আমি দেখেছি দেবলীনার মা কিছুক্ষেত্রে ওঁকে ব্ল্যকমেল করতেন। এটা না করলে, ওটা না করলে, শোয়ে সঙ্গে যাবেন না, এই ধরনের। আমাদের প্রধান সমস্যা ওঁর মাকে নিয়েই হয়েছিল। কিন্তু এটা কোনওদিন দেবলীনাকে বলা হয়নি, হয় মাকে ছেড়ে দাও, না হলে আমাদের ছেড়ে দাও। এটা সম্পূর্ণ বানিয়ে বলা হচ্ছে। ওঁর মাকে দেখতে কেমন, সেটা নিয়ে আমার কোনও সমস্যা ছিল না, তার প্রমাণ হলো, ওঁর মা কেমন, তা দেখেই তো আমি বিয়ে করেছি!

দেবলীনা এক রাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে জীবন শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। তখন আপনাকে বারবার জানানো হলেও, আপনি নাকি সাড়া দেননি…ঠিক কী হয়েছিল?

প্রবাহ: যখন দেবলীনা এই পদক্ষেপ করে, তখন ওঁর মায়ের ফোন থেকে আমার ফোনে শুধুমাত্র দু’ বার ফোন আসে। রাত দু’ টোর সময়। যখন আমি চেন্নাই থেকে কলকাতা ফ্লাই করছিলাম। তার আগে আমাদের একটা জিনিস নিয়ে মন কষাকষি হয়েছিল। আমাদের একটা লাঞ্চের প্ল্যান ছিল। কিন্তু আমার এমন ডিউটি পড়ে, সেটা বাতিল করতে হয়। আমি ওকে বোঝাই যে সেটা এমার্জেন্সি ডিউটি। আমি আমার ফ্লাইং-এর একটা ছবি পোস্ট করেছিলাম। ও আমাকে বলে, বছরের প্রথম দিনে কেন আমি দু’ জনের ছবি পোস্ট করিনি। আমি বলেছিলাম, রিল আর রিয়েল লাইফ আলাদাই হয়। এই ঘটনা যেদিন ঘটছে, তখন আমি তিনদিনের ডিউটি থেকে ফিরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। পরদিন দেখি সমাজ মাধ্যমে সকলে আমাকে অ্যাবিউজ করছেন! যেখানে শুনি ও ৭৮টা ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল। ওই সময়ে আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কী করা উচিত বুঝতে পারিনি। সেই কারণে আর যাইনি। ওঁদের তরফেও যোগাযোগ করা হয়নি। যা জানতে পারছিলাম, সবই সমাজ মাধ্যম থেকে। পরে আমার মনে হয়েছে, ৭৮টা ঘুমের ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর কীভাবে চিকিত্‍সা হয়েছে, কোন চিকিত্‍সকের অধীনে চিকিত্‍সা হয়েছে, এগুলো বিস্তারিতভাবে জানা প্রয়োজন। হ্যাঁ, আমার সঙ্গে ওই সময়ে দেবলীনার কিছু ব্যাপারে মতবিরোধ হয়। আমার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছে যে সেদিন ও মায়ের সঙ্গে থাকবে। সেদিন রাতে এই ঘটনার কথা আমি জানতে পারিনি। পরদিন সকালে আমি সায়কের (চক্রবর্তী) পোস্ট দেখি। তখন সত্যি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।

দেবলীনাকে কি মায়ের থেকে সরে আসতে বলা হয়েছিল?

প্রবাহ: বিষয়টা এরকম নয়। আমাকে বা ওঁর মাকে বেছে নিতে হবে, কখনও বলা হয়নি। তবে আপনারা ভিডিয়ো দেখলে বুঝতে পারবেন, ওঁর মা সব সময়ে মেয়ের কাছে-কাছেই থাকতেন। একবার ওঁর মা বলেন, ‘মেয়ের বিয়ে দিয়ে আমি শান্তিতে নেই’। তখন আমার বাবা বলেন, ‘তা হলে কি মেয়ে আপনার কাছে থাকলে শান্তিতে থাকবেন?’ এটাকেই এভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে যে, দেবলীনাকে একজনকে বেছে নিতে বলা হয়েছিল।

দেবলীনার সঙ্গে কি আপনার পরিবারের সম্পর্ক ভালো ছিল?

প্রবাহ: দেবলীনার সঙ্গে আমার বাবা-মায়ের সম্পর্ক ভালো ছিল, সেগুলো আপনারা ভিডিয়োতেই দেখতে পারবেন। মায়ের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল ওঁর। আমি যখন শুনলাম যে আমাদের পরিবারের সঙ্গে ওঁর সম্পর্ক নাকি ভালো নয়, ভীষণই অবাক হয়েছি।

আপনার সম্পর্কে সমাজ মাধ্যমে অনেক নেগেটিভ মন্তব্য এসেছে। কী বলবেন?

প্রবাহ: সেই সময়ে তিন-চারদিন ধরে সমাজ মাধ্যমে একটা আদালত বসেছিল। আমি এত দিন তাই নিয়ে কোনও কিছু বলিনি। কারণ আমার স্ত্রীর সম্পর্কে কোনও নেগেটিভ মন্তব্য করতে চাইনি। এটাই প্রথমবার, যখন কোনও মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলছি। আমার দিকটা এবার সকলকে জানানো প্রয়োজন। এই ঘটনায় আমি খুব বেশি প্রভাবিত হয়েছি। ১৫-১৬ দিন কাজ করতে পারিনি ঠিক করে। আমার কোম্পানিকে জানাতে হয়েছিল, এখন কাজ করতে পারছি না। ছুটি নিতে হয়েছিল। আমার সব সময়ে মনে হতো, আমার কথাটা তো কেউ শুনলই না। একটা সম্পর্কে টুকটাক সমস্যা হয়, কিন্তু কী এমন হলো যে দেবলীনাকে এত বড় পদক্ষেপ করতে হলো, সেটা তো আমিই জানি না! আমি একটাই কথা বলব, দেবলীনা, ওঁর মা, বাউন্সার আর ড্রাইভার একটা গাড়িতে যাচ্ছিল। মায়ের উপস্থিতিতেই কি দেবলীনা ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল? এখন মনে হয়, কেন আমার সঙ্গে এরকম করল। আজ অবধি উত্তর পাইনি। এই ঘটনার পর মানুষ না জেনেই আমাকে অপমান করেছেন, আমি হুমকিও শুনেছি। আমি একটা কথা বলছি, জীবন শেষ করে দেওয়া একটা অপরাধ। কেউ কি সমাজ মাধ্যমে সেটা প্রোমোট করতে পারেন? পুরো বিষয়টায় তদন্ত হওয়া দরকার। দেবলীনা কিন্তু এমনিতে খুব শর্ট টেম্পারড। ও আমাকে চড় মেরেছে, আবার পা ধরে ক্ষমাও চেয়েছে। এফআইআর-এ ও লিখেছে যে, আমি ওঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছি। আমরা যখন বেড়াতে গিয়েছি, তখনও আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হতো। ও চাইত, আমি ওঁর সব কথায় ‘হ্যাঁ’ বলব। ‘ও মদ খেয়ে আমাকেও বলেছে যে, ঘুমের ওষুধ খেয়ে মরতে চাই’। যাই হোক, ও বলে আমি সমাজ মাধ্যমে গিয়ে বলব। ওটা কি কোনও আদালত? দেবলীনা বলে, হয় সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করবে, নয় জীবন শেষ করে দেবে। বা পলিটিকাল কানেকশন ব্যবহার করবে। এই ঘটনার পর আমার পরিবার খুব খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। এমনকী ও সমাজ মাধ্যমে বলেছে, আমার ভাইয়ের সমানে ওঁকে নাকি অন্তর্বাস গুণতে হয়েছে! এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের কাছে তার প্রমাণ আছে। আমি এতগুলো কথা বলার পর দেবলীনা কী করবে জানি না। কিন্তু কোথাও আমার কথাগুলো বলা দরকার ছিল।

 

Follow Us