
শমীক রায়চৌধুরী পরিচালিত ‘মায়া সত্য় ভ্রম’ ছবিতে প্রধান মুখ হিসাবে দেখা যাবে অভিনেতা সনত্ চট্টোপাধ্যায়কে। সনত্ আমেরিকাতে একজন কর্পোরেট লিডার। যাঁর শিকড় এই বাংলাতেই। শহর থেকে দূরে গিয়ে কর্পোরেট দুনিয়াতে চূড়ান্ত সাফল্য পেলেও, এবার একটা বাংলা ছবিতে বিনিয়োগ করলেন তিনি। পাশাপাশি এই ছবিটি যাঁরা ইতিমধ্যেই দেখেছেন, সনতের অভিনয়ে তাঁরা মুগ্ধ।
একটা বাংলা ছবির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ভাবলেন কেন? TV9 বাংলার প্রশ্নের উত্তরে সনত্ বললেন, ”আমার একজন বন্ধুর সঙ্গে জীবনের বৃত্ত নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, ইউএসএ-তে কর্পোরেট দুনিয়ার সাফল্য পাওয়ার বাইরে জীবনের বৃত্ত সম্পূর্ণ করার ব্যাপারে আমি কী ভাবছি। সেই সময়ে আমার মনে হয়, একটা অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণের কথা ভাবতে পারি। সিনেমায় অভিনয় করতে পারি। এ কথা শুনে অনেকে হতবাক হয়েছিলেন। ইউএসএ-তে কর্পোরেট দুনিয়ায় আমি যে পরিমাণ সফল, তাতে অনেকেরই মনে হয়, আমার ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত সিরিয়াস। সেখানে আমার এমন পদক্ষেপ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু আমি বিষয়টা নিয়ে এগিয়ে যাই, যখন পরিচালক শমীকের সঙ্গে আলাপ হয়। আমরা একটা গল্প নিয়ে আলোচনা করি। আমরা ‘মায়া সত্য ভ্রম’-এর আগে ‘মাশরুম’ নামে আর একটা ছবি তৈরি করেছি। সেটি জিওস্টার-এ দেখা যাবে। তারপর ‘মায়া সত্য ভ্রম’ তৈরি হয়। এটা ভাবিনি, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাতটা সেরা অভিনেতার পুরস্কার পাবো। ছবিটার গল্পটা শোনার পর, মনে হয়েছিল অভিনেতা হিসাবে কাজটা করে দেখি। চরিত্রটা জটিল এবং এই চরিত্রে চোখের ভাষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন ছবিটা দেখার পর মনে হয়েছে, এই পদক্ষেপ নিয়ে আফসোস নেই।”
পোড় খাওয়া অভিনেতাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কীভাবে কাজটা করলেন? সনত্ খোলসা করলেন, ”কর্পোরেটে আমি ৩০,০০০ মানুষের লিডার ছিলাম। অভিনয়ে আবার দর্শকের কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করতে হয়। একজন লিডারকে অন্যরা ফলো করেন। কিন্তু একজন অভিনেতা দর্শককে ফলো করেন। এই পরিবর্তন আমার কাছে খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। আসলে অভিনয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, কারণ যখন যাদবপুরে পড়তাম, তখন একটা একক নাটক করেছিলাম। ৯০ মিনিটে আট-ন’টা চরিত্র করেছিলাম। সব নাটকের ফেস্টিভ্যালে আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হয়ে গিয়েছিলাম। ‘মৃগয়া’-র পর মৃণাল সেন এসেছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমি দেখা করতে চেয়েছিলাম। উনি বাড়িতে যেতে বলেন। যেদিন গিয়েছিলাম, সেদিন বাড়িতে ছিলেন না। আমার বাবা তখন এই ব্যাপারে উত্সাহ দেননি। বলেছিলেন আগে পিএইচডি করতে। সেই পথেই হাঁটি। তবে আমি জানতাম, অভিনয় করতে পারি।”
সনতের কথায় স্পষ্ট, ‘মায়া সত্য ভ্রম’-এর আগে পরিচালক শমীক রায়চৌধুরীই তাঁকে বলেন, সিনেমার জন্য তিনি একেবারে উপযুক্ত। তারপর এই পথচলা শুরু হয়। ‘মায়া সত্য় ভ্রম’-এর আরও দুই প্রধান মুখ প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং সোহম মজুমদার। ছবিটা শহরে মুক্তি পাচ্ছে এই সপ্তাহে।