
‘অনেকদিন পর’ ছবি দেখার জন্য শমীক ভট্টাচার্য এবং রুদ্রনীল ঘোষকে আমন্ত্রণ জানাতে পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায় এবং সৌরভ পালোধী। প্রসেনজিত্ এই ছবির প্রযোজক, সৌরভ পরিচালনা করছেন ছবিটির। তবে এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয়ে যায় বিতর্ক। সৌরভ পালোধীর একটা পুরনো ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। সেই পোস্টে সৌরভ লিখেছিলেন, ”’ঘুম নেই’ নাটক থেকে কৌশিক করকে বাদ দেওয়া হলো, কারণ বিজেপিতে যোগ দিয়েছে আর বর্তমান সময় সেটাই বাদ দেওয়ার যথেষ্ট কারণ। মেহনতী মানুষের নাটকে সাম্প্রদায়িকদের ঠাঁই নেই। তাই, চল ফোট…”। কৌশিক কর সম্পর্কে তাঁর এই বক্তব্য ছিল।
এখন রাজ্যে বিজেপির সরকার। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তা হলে সৌরভ কী করে শমীক ভট্টাচার্য এবং রুদ্রনীল ঘোষকে আমন্ত্রণ জানাতে গেলেন? এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সৌরভ অবশ্য তাঁর ভাবনা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, ”পার্নো মিত্র যখন বিজেপি করতেন, তখনই আমার ‘অঙ্ক কী কঠিন’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। আমার তাতে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু আমি আজও বলছি, থিয়েটার করি, আমার মতাদর্শের জায়গা থেকে।
আবার যখন মতাদর্শগতভাবে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে থিয়েটার করব, সেখানে কোনও সাম্প্রদায়িক মানুষের স্থান হবে না। থিয়েটারের ক্ষেত্রে জার্নি আলাদা হয়। যাঁরা থিয়েটার যাপন করেন, থিয়েটার নিয়ে বাঁচেন, এই উত্তর তাঁদের দিতে হয় না। আবার বলছি, রুদ্রদা আমার সহকর্মী, তাঁকে নিয়ে আলাদা কিছু বলারই নেই। শমীকদাকে কেন আমন্ত্রণ করা হচ্ছে, এই প্রশ্নটা আসছে, কারণ রাজ্যে এখন বিজেপির সরকার। কিন্তু শমীকদা এর আগেও আমাদের থিয়েটার দেখতে এসেছেন। তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে আমার বিরোধ রয়েছে। বিরোধ থাকবে। কৌশিক এমনিতে আমার বন্ধু। ওঁর সঙ্গে যোগাযোগও আছে। তবে সিনেমা-সিরিয়ালের চেয়ে থিয়েটার আলাদা। রাজনৈতিক মতাদর্শের ক্ষেত্রে বিরোধ থাকলে, আমার পক্ষে তাঁর সঙ্গে থিয়েটারে কাজ করা সম্ভব নয়।”