
ম্যাজিক মোমেন্টস প্রযোজিত ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র শুটিং করতে গিয়ে অকালমৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিষয়টি নিয়ে এফআইআর করেছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। তদন্ত চলছে। রাহুলের মৃত্যুর ন্যায়বিচার চেয়ে আর্টিস্টস ফোরামে একটা মিটিং ডাকা হয়েছিল। মিটিং শেষে সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা করা হয়, শিল্পীরা ম্যাজিক মোমেন্টস-এর সঙ্গে কাজ করতে সুরক্ষিত বোধ করছেন না।
সেই সময়ে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের পুত্র অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা অর্গানিক স্টুডিয়োস-এর কাজও বন্ধ হয়। এই প্রযোজনা সংস্থার ‘কনে দেখা আলো’ সেই সময়ে লিখছিলেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। যদিও কয়েক দিন শুটিং বন্ধ থাকার পর এই ধারাবাহিকের শুটিং শুরু হয়। আর্টিস্টস ফোরামের তরফে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছিল। আর্টিস্টস ফোরামের এই পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অর্ক। তিনি আইনি পদক্ষেপ করেছেন আর্টিস্টস ফোরাম, প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায় এবং শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।
খবর হলো, অর্গানিক স্টুডিয়োস-এর নতুন ধারাবাহিক শুরু হওয়ার কথা। এবার শিল্পীদের থেক সরাসরি প্রযোজনা সংস্থা জেনে নিতে উদ্যোগী হলো, প্রযোজনা সংস্থার হয়ে কাজ করতে শিল্পীদের কোনও অসুবিধা আছে কিনা। এক বার্তায় বলা হয়েছে,
”প্রিয় অভিনেত্রী/অভিনেতা,
প্রায় তিন মাস আগে, আপনাদের আর্টিস্টস ফোরামের মুখপাত্ররা সাংবাদিকদের সামনে জানিয়েছিলেন যে তাঁদের সদস্যরা আমাদের, অর্থাৎ অর্গানিঙ্ক স্টুডিওস-এর সঙ্গে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন এবং আমাদের প্রযোজিত কোনও প্রকল্পে অভিনয় করতে চান না। আপনি যদি আমাদের সঙ্গে কাজ করতে অনাগ্রহী হন, তবে অনুগ্রহ করে আমাদের সরাসরি জানান। সেক্ষেত্রে আমরা অযথা আপনাকে কাস্টিংয়ের জন্য যোগাযোগ করে বিব্রত করব না। অনুগ্রহ করে নীচের দু’টি বিকল্পের মধ্যে একটি নির্বাচন করে আনুষ্ঠানিকভাবে আপনার মতামত জানান। অর্গানিঙ্ক স্টুডিওস এর সঙ্গে কাজ করতে -১. আগ্রহী ২. আগ্রহী নই”।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিল্পী টিভি নাইন বাংলাকে জানালেন, ”প্রযোজনা সংস্থার তরফে একটি মেসেজ পেয়েছি। এটা জেনে নিয়ে প্রযোজনা সংস্থা শিল্পী নির্বাচন করলে, আর কোনও সমস্যা থাকবে না। এমন কিছু শিল্পী আছেন, যাঁরা আর্টিস্ট ফোরামের সেদিনের মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁরাও নিজেদের মত জানিয়ে দিতে পারবেন।”
এই প্রসঙ্গে টিভি নাইন বাংলাকে অর্ক জানালেন, ”আমাদের প্রযোজনা সংস্থার কাজ যে বন্ধ করে দেওয়া হবে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৮ এপ্রিল। সেই সময়ে কোনও ভোট নেওয়া হয়নি। এটা গায়ের জোরে কয়েকজন মিলেই করেছিলেন। তারপর যখন আমি তাঁদের চিঠি লিখি, তাঁরা বুঝতে পারেন, এতে আইনি সমস্যা হতে পারে, তখন ১১ তারিখ ভোটাভুটির পরিবেশ তৈরি করা হয়। তারপর বলা হয়, আমরা ভোট নিয়েছি, এবং শিল্পীরা বলেছেন, তাঁরা কাজ করবেন না ম্যাজিক মোমেন্টস এবং অর্গানিক স্টুডিয়োস-এর সঙ্গে। এটা অপরাধ কারণ আর্টিস্টস ফোরামের কাজ হচ্ছে, কোনও কনফ্লিক্ট তৈরি হলে, সেটার সমাধান করা। লোকজনকে ডেকে একটা কনফ্লিক্ট তৈরি করতে পারে না ফোরাম। সেদিন ৬০০-৭০০ লোক গিয়ে মত দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের অনেকেই আমাদের সঙ্গে কাজ করতেন না। আমাদের সঙ্গে যাঁরা কাজ করতেন, তাঁরা তখনই জানিয়েছেন যে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চান। এখন আমরা তার বাইরেও অন্যান্য শিল্পীদের জিজ্ঞাসা করে নিচ্ছি, তাঁরা আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী কিনা। তাঁরা সকলে বলছেন যে, আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চান। এর আগে আমরা যখন শিল্পীদের প্রশ্ন করি, তাঁরা অফিশিয়াল লেটার দিয়ে জানিয়েছেন যে, তাঁদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। রাহুলের ঘটনায় ন্যায় বিচার চান কিনা, প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তাঁরা সকলে সম্মতিসূতক সই করেছিলেন। তবে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চান কি চান না, সেটা তাঁদের জিজ্ঞাসা করে সই নেওয়া হয়নি। এখন সেই কারণে আমরা অফিশিয়াল সার্ভে পাঠিয়েছি সকলের কাছে। তাতে ৯৮ শতাংশ শিল্পী বলেছেন, তাঁরা আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চান। শুধু আর্টিস্টস ফোরামের কমিটিতে যাঁরা আছেন, এরকম কিছু শিল্পী ছাড়া। তাই যেরকম বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল যে শিল্পীরা আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চান না, তার যৌক্তিকতা নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলতে চাই আদালতের কাছে।”