
২৯ মার্চ বালাসোরে শুটিং করতে গিয়ে অকাল মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজিত ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্বেতা মিশ্র। শুটিং করতে গিয়ে কীভাবে জলে তলিয়ে মৃত্যু হলো রাহুলের, তার উত্তর খুঁজছেন বাংলার মানুষ। এই ঘটনায় প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং আরও কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার।
এবার দীঘার সাংবাদিক বৈঠকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায় উঠে এলো রাহুল প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ”বিরাট সমুদ্রতটে মাত্র ৬৩ জন নুলিয়া রয়েছে। কিছুদিন আগেই একজন চিত্র-পরিচালকের (রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যুর ঘটনার কথা বলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী) মৃত্যু এখানে ঘটেছে। ওড়িশার সরকার সিট (SIT) বানিয়েছে। আমি পূর্ব মেদিনীপুরের এসপি-কে নির্দেশ দিয়েছি, অবিলম্বে প্রশাসনের ডিরেক্টর জেনারেলের মাধ্যমে হোম সেক্রেটারিকে পাঠাতে, এই মামলাটা যাতে সিআইডি নিয়ে নেয়। ওঁর পরিবার থেকে এখানে মামলা করে গিয়েছেন। যেটা একটা ন্যাচারাল ডেথ হিসাবে অপমৃত্যুর মামলা হয়ে রয়েছে। খুব অন্যায়!” আগের সরকার কী ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে সেই এলাকায়, তা নিয়েও সাংবাদিক বৈঠকে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবার ছিল আর্টিস্টস ফোরামের মিটিং। মাসের দ্বিতীয় রবিবার এই মিটিং থাকে কমিটির সদস্যদের নিয়ে। রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, আবীর চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, দেবদূত ঘোষের মতো আরও নামী নাম উপস্থিত ছিলেন মিটিংয়ে। সূত্রের খবর, আইনি জটিলতা তৈরি হলেও, আর্টিস্টস ফোরাম রাহুলের অকালমৃ্ত্যু নিয়ে যা পদক্ষেপ করেছে, সেই পথ ধরেই চলতে চায়। যদিও এই বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি ফোরামের তরফে।
রাহুলের মৃত্যুর পর আড়াই মাস সময় কেটে গেলেও, এখনও তদন্তে কী উঠে আসছে, তা নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি প্রশাসনের তরফে। রাহুলের সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রকে বারংবার প্রশ্ন করা হলেও, তিনি মিডিয়ার সামনে মুখ খুলতে নারাজ। এতে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।