
টলিপাড়ায় অতীতে তীব্র জটিলতা তৈরি হয়েছিল, শুটিংয়ের কোনও সময়সীমা থাকত না বলে। ধারাবাহিকের শুটিংয়ে হয়তো রাত দশটায় প্যাকআপ হয়েছে। আবার ভোর পাঁচটায় শুটিংয়ে আসতে বলা হতো শিল্পীদের। এই নিয়ে এতটাই ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল যে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়। টেকনিশিয়ানদের ফেডারেশনের তরফে এক দিনে ১৪ ঘণ্টার বেশি শুটিং করা যাবে না, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।
কিন্তু এই মুহূর্তে ফেডারেশন কাজ চালাতে পারছে না। ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস পদত্যাগ করেছেন ডিসেম্বর মাসে। এরপর ৪মে রাজ্যে সরকার বদলে যায়। ফেডারেশন কার নেতৃত্বে কাজ চালাবে, কীভাবে কাজ চালাবে, ফেডারেশন থাকবে কিনা, এসব নিয়ে উত্তর খুঁজছেন টলিপাড়ায় কর্মরত বিভিন্ন ব্যক্তিরা।
শোনা যাচ্ছে, ফেডারেশন অতিরিক্ত সময় শুটিংয়ে বাধা দিতে পারবে না বলেই, কিছু প্রযোজক ১৬ ঘণ্টা-১৮ ঘণ্টা করে শুটিং করাচ্ছেন শিল্পী-টেকনিশিয়ানদের দিয়ে। এই ব্যাপারে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কিছু টেকনিশিয়ান। যেমন টিভি নাইন বাংলাকে মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুণ্ডু জানা্লেন, ”কিছু প্রযোজক ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও শুটিং করছেন। কিছু শিল্পী- টেকনিশিয়ান এই বিষয়টা নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। আমরা চাই এই সব কিছু দেখাশোনা করার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে একটা কমিটি তৈরি করে দেওয়া হোক।”
আবার বাংলা ধারাবাহিকের নামী প্রযোজক সুশান্ত দাস টিভি নাইন বাংলাকে জানালেন, ”১৪ ঘণ্টার জায়গায় ১৮ ঘণ্টা শুটিং হচ্ছে, এরকম কোনও খবর নেই। তবে আগে যেরকম ১৪ ঘণ্টা হয়ে গেলেই আর দু’ মিনিটও শুটিং করলে ঝামেলা হতো, এখন সেটা হচ্ছে না। পাঁচ-দশ মিনিট বেশি শুটিং করেছি আমরা, যখন খুব প্রয়োজন হয়েছে। টেকনিশিয়ানরাও তার প্রয়োজনীয়তা বুঝে, আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন।”
সূত্রের খবর, সরকার বদলের পর টলিপাড়ায় কাজের পদ্ধতি নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। সেই কারণে আজ নন্দনে বৈঠকে প্রযোজকদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। উপস্থিত থাকবেন পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের মতো চার বিধায়ক। টেকনিশিয়ানদের তরফে প্রতিনিধি দল তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরবেন। সেখানে ১৪ ঘণ্টার বেশি শুটিংয়ের বিষয়টা আলোচিত হতে পারে। টলিপাড়ায় কাজ সংক্রান্ত জটিলতা কাটানোর জন্য এই বৈঠকের শেষে কী সিদ্ধান্তে উপনীত হয় প্রশাসন, তা দেখার অপেক্ষা।