
‘দ্য টেগোর ট্রিলজি’ একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র-প্রকল্প, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত নৃত্যনাট্যসমূহ থেকে অনুপ্রাণিত। পরিচালক অরিন্দম দে জানালেন, ”একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আমি কখনও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অন্ধভাবে গ্রহণ করিনি, বরং সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই তাঁকে পড়েছি ও ভেবেছি। তবু তাঁর সৃষ্টিকর্ম আমার কাছে মানুষ হয়ে ওঠার অর্থকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে। তিনি আমাকে দেখিয়েছেন যে পরস্পরবিরোধী সত্যও পাশাপাশি সহাবস্থান করতে পারে।এই দর্শনই ‘দ্য টেগোর ট্রিলজি’-র মূল ভিত্তি। রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য ‘শাপমোচন’, ‘শ্যামা’ এবং ‘মায়ার খেলা’ থেকে অনুপ্রাণিত এই তিনটি চলচ্চিত্র সমকালীন প্রেক্ষাপটে অভিবাসন, পরিচয়, প্রেমের গল্পকে নতুনভাবে অনুসন্ধান করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের নিয়ে গঠিত একটি দলের অংশগ্রহণে নির্মিত এই ট্রিলজির লক্ষ্য সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সৌন্দর্যকে উদ্যাপন করা।” প্রথম চলচ্চিত্রটি মে ২০২৭-এ মুক্তির লক্ষ্যে নির্মিত হচ্ছে।
এই প্রকল্পটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক ‘বিয়ন্ড বাউন্ডারিজ ক্রিয়েটিভ প্রাইভেট লিমিটেড’-এর উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পটির সৃজনশীল নেতৃত্বে রয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অরিন্দম দে এবং প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন ড. মনোজিৎ সেন। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন আরও বহু বিশিষ্ট সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব, যেমন বিক্রম ঘোষ। প্রকল্পটির ভিজ্যুয়াল ইন্টারপ্রিটার হিসাবে থাকছেন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হিরণ মিত্র।
বিক্রম বললেন, ”এই প্রোজেক্টের কনসেপ্ট আমার খুব পছন্দ হয়েছে। পরিচালক অরিন্দম দে-র সঙ্গেই কথা এগিয়েছিল এই কাজ নিয়ে। সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড, ভারতবর্ষ সব মিলেমিশে একাকার হচ্ছে এই কাজে, মাইগ্রেশনের থিমকে ভিত্তি করে। খুব প্রাসঙ্গিক লেগেছে এই ভাবনা। বেশ কিছু নামী বিদেশের শিল্পীদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। এমনভাবেই কাজটা করব, যা স্মৃতিতে থাকবে।”