
রণবীর কাপুর (Ranbir Kapoor) এবং তাঁর প্রয়াত বাবা ঋষি কাপুরের সম্পর্ক যে সবসময় বেশ অম্ল-মধুর ছিল, তা বলিপাড়ার কারও অজানা নয়। তবে বাবার কড়া শাসনের মুখে পড়ে একবার বেশ ভালো রকমই বিপাকে পড়েছিলেন অভিনেতা। রণবীর নিজেই এক পুরনো সাক্ষাৎকারে অকপটে স্বীকার করেছিলেন যে তিনি একসময় মাদক সেবন করতেন। আর টেলিভিশনের পর্দায় ছেলের এই চরম সত্যিটা দেখেই নাকি রাগে ফেটে পড়েছিলেন ঋষি কাপুর! আড়ালে নয়, একদম কাজের জায়গাতেই ফোন করে ছেলেকে তুমুল বকাঝকা করতে শুরু করেন তিনি। সম্প্রতি এক পডকাস্টে এই অজানা ঘটনার কথা ফাঁস করেছেন বলিউডের জনপ্রিয় লাইন প্রডিউসার সুমিত ত্যাগী।
‘দো দুনি চার’ ছবির শুটিংয়ের সময়কার এই ঘটনা মনে করে সুমিত জানান, সেটে ঋষি কাপুরের ঘরের ভেতরে একটি টিভি চলছিল। সুমিত তখন অভিনেতার সঙ্গে স্ক্রিপ্টের সংলাপ নিয়ে মকশো করছিলেন। ঠিক তখনই টিভিতে রণবীরের একটি সাক্ষাৎকার ভেসে ওঠে। সেখানে রণবীর কাপুর স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি একটা সময় মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। ব্যস, ছেলের মুখ থেকে এই কথা শোনা মাত্রই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি ঋষি কাপুর। সুমিতের কথায়, “রণবীরের ওই মন্তব্য দেখার পরই ঋষি আমাকে ঘর থেকে চলে যেতে বলেন। এরপরই তিনি রণবীরকে ফোন লাগান এবং ফোনের ওপারেই ওঁর ওপর চিৎকার করে প্রচণ্ড রাগ দেখাতে শুরু করেন।”
বাবার কড়া মেজাজের কারণে রণবীর যে ঋষি কাপুরকে কতটা এড়িয়ে চলতেন, সেই গল্পও শুনিয়েছেন সুমিত। একবার নাকি রণবীর ছবির সেটে শুধু মা নীতু কাপুরের সঙ্গে দেখা করেই তড়িঘড়ি চলে গিয়েছিলেন, বাবার সামনেই আসেননি। নীতু কাপুরও নাকি ঠাট্টা করে বলতেন, ঋষি কাপুর রাতে মদ্যপান করলে একেবারে খাঁটি পাঞ্জাবি মেজাজে চলে আসেন।
আসলে ‘রকস্টার’ ছবির প্রচারের সময় রণবীর নিজেই জানিয়েছিলেন, ফিল্ম স্কুলে পড়ার সময় তিনি প্রথমবার মাদক নিয়েছিলেন। পরে ‘রকস্টার’ ছবির শুটিংয়ের সময় চরিত্রের গভীরে ঢুকতে এবং কনসার্টের দৃশ্যে ৩০০ জন জুনিয়র আর্টিস্টের সামনে সাবলীল অভিনয় করতেও তিনি ফের মাদকের সাহায্য নেন। তবে পরবর্তীতে শর্ট-টার্ম মেমোরি লসের ভয়ে তিনি এই অভ্যাস পুরোপুরি ছেড়ে দেন। বর্তমানে শুধু নিকোটিন এবং মিষ্টির প্রতি তাঁর তীব্র আসক্তি রয়েছে বলে নিজেই জানিয়েছিলেন অভিনেতা।
বি.দ্র: ধূমপান ও মাদক সেবন শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।