
আমির খানের ব্লকবাস্টার ছবি ‘তারে জমিন পার’ (Taare Zameen Par)-এর সেই শান্ত, চশমা পরা আদর্শ বড় ভাই ইয়োহানকে মনে আছে? দুর্দান্ত রেজাল্ট, সুইমিং পুলে চ্যাম্পিয়ন আর ছোট ভাই ঈশানের প্রতি অসম্ভব যত্নশীল, পর্দায় সচেত ইঞ্জিনিয়ার (Sachet Engineer) অভিনীত এই চরিত্রটি রাতারাতি দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিল। ২০০৭ সালের সেই তুমুল জনপ্রিয়তার পর আর কোনও বলিউড ছবিতে তাঁকে দেখা যায়নি। গ্ল্যামার দুনিয়ার কেরিয়ার ছেড়ে দিয়ে আজ সম্পূর্ণ এক অন্য পেশায় বিশ্বমঞ্চে ঝড় তুলছেন সচেত।
সাধারণত একটা সুপারহিট ছবিতে অভিনয় করার পর বেশিরভাগ শিশুশিল্পীই রুপোলি পর্দায় নিজেদের ভবিষ্যৎ খোঁজার চেষ্টা করেন। তবে সচেত হেঁটেছেন একেবারেই উল্টো পথে। অভিনয়কে কোনওদিনই পাকাপাকি পেশা হিসেবে ভাবেননি তিনি। তাই ছবির অফার ফিরিয়ে দিয়ে মন দিয়েছিলেন পড়াশোনায়। আর সেই জেদ তাঁকে আজ পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য শিখরে। সচেত এখন ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাজ্যের (UK) একজন অত্যন্ত সফল ও প্রতিষ্ঠিত দন্তচিকিৎসক।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের উচ্চশিক্ষায় তাঁর কৃতিত্ব শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। ভারতে পড়াশোনা শেষ করার সময় তিনি নিজের মেধার জোরে ‘স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। বর্তমানে তিনি পিরিয়োডন্টোলজি (Periodontology) বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে আন্তর্জাতিক স্তরে কাজ করছেন।
সচেত ইঞ্জিনিয়ার
ডাক্তারির পাশাপাশি সচেতের জীবনে রয়েছে আরও এক চমকপ্রদ অধ্যায়। তিনি যে কেবল দাঁতের চিকিৎসাই করছেন তা নয়, তাঁর স্বপ্ন এখন ডানা মেলেছে নীল আকাশে। বিমান চালনার প্রতি গভীর প্যাশন থেকে তিনি বর্তমানে পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সম্প্রতি নিজের প্রথম একক উড়ানের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তিনি সোশাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, “আকাশে ডানা মেলার পরই বুঝলাম, পৃথিবীর বড় বড় সমস্যাগুলো আসলে কত ছোট! দিগন্তের মতোই মানুষের সম্ভাবনাও কিন্তু অসীম।”
বলিউড পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও সচেতের সিনেমায় আসাটা ছিল একপ্রকার কাকতালীয়। স্রেফ একটা অডিশনে অংশ নিয়েই তিনি ইয়োহান চরিত্রের জন্য নির্বাচিত হয়ে গিয়েছিলেন। আজ প্রায় দুই দশক পর সচেত ইঞ্জিনিয়ারের এই জীবনকাহিনি প্রমাণ করে যে, জীবনের সাফল্যের সংজ্ঞা শুধু সেলিব্রিটি হওয়া বা ক্যামেরার সামনে থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। লাইমলাইটের বাইরে গিয়েও নিজের ইচ্ছেশক্তির জোরে কীভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ‘টপার’ হওয়া যায়, সচেত আজ তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।