
হেমা মালিনী (Hema Malini), যাঁর এক ঝলক দেখার জন্য একসময় থমকে যেত আসমুদ্রহিমাচল, সেই বলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’ কেন আচমকা রুপোলি পর্দা থেকে গায়েব হয়ে গেলেন? সত্তর ও আশির দশকে বক্স অফিসে রাজত্ব করা এই অভিনেত্রী কেন এখন আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে চান না, তা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে জল্পনার শেষ ছিল না। অবশেষে সেই রহস্যের পর্দা ফাঁস করলেন অভিনেত্রী নিজেই। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আজকের যুগের সিনেমা তৈরির রীতির সঙ্গে তিনি আর নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছেন না।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ কেরিয়ার এবং বর্তমান বলিউড নিয়ে অকপট বার্তা দিয়েছেন মথুরার বিজেপি (BJP) সাংসদ। তাঁর মতে, তাঁদের সময়কার সিনেমার যে স্বর্ণযুগ ছিল, তা আজ অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছে। হেমা বলেন, “ওটা সম্পূর্ণ একটা আলাদা সময় ছিল। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি যে ওই সোনালী অধ্যায়ের অংশ হতে পেরেছিলাম।” ‘স্বপ্ন কা সওদাগর’ দিয়ে পথ চলা শুরু করে প্রায় ২০০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘সীতা অউর গীতা’, ‘শোলে’, ‘বাগবান’ বা ‘সত্তে পে সত্তা’-র মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দেওয়া এই তারকা মনে করিয়ে দেন, সে যুগে নারীর চরিত্রগুলোকে পর্দায় যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হত, তার আবেদনই ছিল আলাদা।
তাহলে এখন কেন আর সিনেমা করছেন না? এই প্রশ্নের উত্তরে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জানান, ডিজিটাল যুগে সিনেমা বানানোর টেকনিক ও গল্প বলার ধরন আমূল বদলে গিয়েছে। আগের মতো পাঁচ-ছয়টি সুপারহিট গান আর মন ছুঁয়ে যাওয়া চিত্রনাট্যের চেনা ছক এখন আর নেই। আর এই নতুন ট্রেন্ড বা খাপছাড়া রীতির সঙ্গেই আপস করতে পারছেন না তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে রমেশ সিপ্পির ‘শিমলা মির্চি’ ছবিতে শেষবার দেখা গিয়েছিল হেমা মালিনীকে। রাজকুমার রাও এবং রাকুল প্রীত সিং অভিনীত সেই ছবি বক্স অফিসে একেবারেই সাড়া ফেলতে পারেনি। এরপর থেকেই সিনেমা থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন তিনি। অভিনয়ে না থাকলেও ২০১৪ সাল থেকে উত্তরপ্রদেশের মথুরা লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ হিসেবে রাজনীতির ময়দানে কিন্তু তিনি সমান সক্রিয়।