
বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর কী এবার সত্যিই গ্ল্যামার দুনিয়া ছেড়ে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখতে চলেছেন? বি-টাউনে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। আর এই জল্পনা কিন্তু একেবারেই উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। স্বয়ং অভিনেত্রী নিজেই এবার খোলসা করলেন তাঁর মনের কথা। দেশের সেবা করার সুযোগ এলে তিনি যে পিছপা হবেন না, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট করে দিয়েছেন ‘দম লাগাকে হাইশা’ খ্যাত এই তারকা।
আসলে সম্প্রতি মুম্বইয়ে নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ টক-শোয়ে হাজির হয়েছিলেন ভূমি। সেখানেই তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না। প্রশ্নের জবাবে বেশ স্মার্টলি ভূমি জানান, দেশের সেবা করা তাঁর রক্তে রয়েছে। আর সেই কাজ যে কোনও মাধ্যমেই হতে পারে।
ভূমি পেডনেকরের এই রাজনৈতিক যোগসূত্রের নেপথ্যে রয়েছে এক জোরালো পারিবারিক ইতিহাস। অনেকেই হয়তো জানেন না, ভূমির বাবা সতীশ পেডনেকর ছিলেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র ও শ্রমমন্ত্রী। ফলে ছোট থেকেই রাজনীতির অলিন্দে তাঁর অবাধ যাতায়াত। সেই প্রসঙ্গ টেনেই অভিনেত্রী বলেন,— “আমার আদর্শ খুবই সহজ। আমি পর্দার আড়ালে সমাজসেবামূলক কাজ করি, এখন সিনেমার মাধ্যমে, নিজের চরিত্রের মধ্য দিয়ে দেশের কথা বলার চেষ্টা করছি। তবে ভবিষ্যতে যদি আরও বড় পরিসরে, আরও গভীরভাবে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ আসে, তবে কেন নয়?”
চলতি বছরের শুরুতেই, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি গিয়েছিল ভূমির ক্রাইম থ্রিলার সিরিজ ‘দলদল’। তবে শুধু অভিনয় নয়, পর্দার বাইরেও পরিবেশ ও সমাজ সচেতনতামূলক কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকেন সবসময়। অবশ্য অনুরাগীদের জন্য সুখবর হল, এখনই লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনকে বিদায় জানাচ্ছেন না তিনি। এর মধ্যেই খবর এসেছে, একটি কোর্টরুম ড্রামা ঘরানার ছবিতে আইনজীবীর চরিত্রে সই করে ফেলেছেন ভূমি। হিমাচল প্রদেশের মনোরম লোকেশনে শুট হতে চলা এই ছবিতে আবারও এক প্রতিবাদী চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। এর আগেও ‘বালা’ ছবিতে একজন আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করে সমাজের চেনা রূপটানের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন তিনি।
অভিনয়ের মাধ্যমেই হোক কিংবা রাজনীতির মঞ্চে, ভূমি যে সমাজ পরিবর্তনের লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকতে চান, তা তাঁর এই আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যেই পরিষ্কার। জননেত্রী রূপে কী সত্যিই আত্মপ্রকাশ করবেনন এই বলি-সুন্দরী? সেই উত্তর সময় বলবে।