
হাতে সময় আছে মাত্র ৬ মাস! ২৩০ কেজি ওজনের আদনান সামিকে ঠিক এই ভাষাতেই সতর্ক করেছিলেন চিকিৎসক। মৃত্যুর এই চরম দিনক্ষণ শুনে পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছিল গায়কের। তবে তাঁর চেয়েও বেশি ভেঙে পড়েছিলেন তাঁর বাবা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ১২০ কেজি ওজন কমানোর সেই কঠিন লড়াইয়ের গল্পই শোনালেন বলিউডের জনপ্রিয় এই গায়ক। জানালেন, বেঁচে ফেরার এই অসাধ্য সাধন তিনি করেছিলেন শুধুই তাঁর বাবার জন্য।
আদনান জানান, চিকিৎসকের ওই চরম সতর্কবার্তা তাঁর থেকেও বেশি আঘাত করেছিল তাঁর বাবাকে। কারণ, সেই ভয়ংকর মুহূর্তে তিনি আদনানের ঠিক পাশেই বসেছিলেন। গায়কের কথায়, “চিকিৎসক যখন ওই কথাটি বললেন, আমি দেখলাম বাবার চোখে জল এসে গিয়েছে। নিজের চেয়েও প্রিয়জনদের কষ্ট দেখা সবচেয়ে কঠিন। সেদিন বাবার চোখের জল দেখে আমি ভিতর থেকে ভেঙে পড়েছিলাম।”
প্রথমে গায়ক ভেবেছিলেন, চিকিৎসক একটু বেশিই ভয় দেখাচ্ছেন। তিনি বাবাকে বোঝানোর চেষ্টাও করেন যে চিকিৎসক অযথাই নাটক করছেন। কিন্তু বাবা তা মানতে চাননি। তিনি ছেলেকে স্পষ্ট জানান, চিকিৎসক একদম ঠিক কথাই বলছেন। বাবার সেই হতাশা দেখেই আদনান জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতিজ্ঞাটি করে ফেলেন। তিনি বাবাকে কথা দেন, যে করেই হোক এই পরিস্থিতি থেকে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন।
বলিউডে কান পাতলেই সে সময় শোনা গিয়েছিল, আদনান নাকি অস্ত্রোপচার করে মেদ ঝরিয়েছেন। তবে গায়ক এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনও সার্জারি নয়, স্রেফ কড়া ডায়েট এবং কঠোর শরীরচর্চার উপরেই ভরসা রেখেছিলেন তিনি।
এই পথ চলা কিন্তু মোটেই সহজ ছিল না। পদে পদে ছিল হতাশা। গায়ক বলেন, “আমি হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছি। পছন্দের সব খাবার থেকে নিজেকে দূরে রেখে, ঘাম ঝরানোর পর যখন দেখতাম মাত্র আধ কেজি ওজন কমেছে, তখন মানসিকভাবে খুব হতাশ লাগত।” মনে প্রশ্ন জাগত, এত কষ্ট করে আদৌ কোনও লাভ হচ্ছে কি? কিন্তু বাবার কাছে করা সেই প্রতিজ্ঞার কথা ভেবে তিনি কখনও মাঝপথে হাল ছাড়েননি।
ওজন কমানোর এই যাত্রায় একটা সময়ে গিয়ে গ্রাফ যেন আর নামতেই চাইত না। কিন্তু মনের জোর আর অদম্য জেদ তাঁকে থামতে দেয়নি। ‘লিফট করা দে’, ‘কভি তো নজর মিলাও’ বা ‘তেরা চেহারা’-র মতো সুপারহিট গানের স্রষ্টা আদনান আজ বহু মানুষের কাছেই অনুপ্রেরণা। ১২০ কেজি ওজন কমিয়ে মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে আসাটা আদতে তাঁর হার না মানা মানসিকতারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।